
কচুয়ায় স্বামীর মারধরে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার


চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৮ নং কাদলা ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে স্বামীর মারধরে সালমা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা কুলসুমা বেগম বাদী হয়ে স্বামী মো. মাহমুদুল হাসানকে (৩৫) আসামি করে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহত সালমা আক্তারের সঙ্গে মাহমুদুল হাসানের ২০২০ সালের মার্চে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও সন্দেহকে কেন্দ্র করে সালমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাহমুদুল হাসান সালমাকে মারধর করেন এবং তার তলপেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সালমা তলপেটে ব্যথা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে কচুয়ায় এসে বিষয়টি জানতে পারেন এবং পরে নিহতের মা কুলসুমা বেগম বাদী হয়ে কচুয়া থানায় মামলা করেন।
পুলিশের আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তকালে প্রকাশ্যে ও গোপনে অনুসন্ধান করে মাহমুদুল হাসান ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রুবেল সরকার সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করেন।
এ ঘটনায় কচুয়া থানায় এফআইআর নং-২২, তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হিসেবে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয়দের দাবি দ্রুত গতিতে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানান।


























