
চাঁদপুর শহরে বাসার জানালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট


চাঁদপুর শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী রোড এলাকায় চক্ষু হাসপাতালের পেছনে একটি ফ্যামিলি বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাসার গেট ও মূল দরজায় তালা অক্ষত থাকলেও বিপরীত পাশের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অজ্ঞাতনামা চোর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিষ্ণুদী রোডের মজিবুর রহমান মিয়ার বাসায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মজিবুর রহমান মিয়ার মেয়ে মারিয়া আক্তার (২৪) বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে ঘটনার তারিখ, সময় ও চুরির বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মজিবুর রহমান অসুস্থ হওয়ায় গত ২০ আগস্ট চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় যান। পরে ২৭ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে বাসায় ফিরে দেখতে পান, বাসার গেটে তালা এবং মূল দরজার তালাও অক্ষত রয়েছে। তবে বাসার বিপরীত পাশের একটি জানালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই জানালা ভেঙেই অজ্ঞাতনামা চোর বাসার ভেতরে প্রবেশ করে চুরি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


বাসার ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চোর আলমারি ভেঙে দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি স্বর্ণের গলার চেইন, একটি হাতের আংটি, দুটি নাকফুল এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এছাড়াও বাসার মোটর, বেসিনের কল, আটটি সিলিং ফ্যান, ওয়েল্ডিংয়ের সরঞ্জাম এবং বাসার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দলিলপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। চোরেরা বাসার আসবাবপত্র কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে রেখে যায় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারী মারিয়া আক্তার জানান, চুরির ঘটনায় তাদের পরিবারের মূল্যবান জিনিসপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় সবকিছু নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহেদ হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন,
তিনি বলেন, আমার তখন অন ডিউটি ছিল তাই আমি ওই জায়গাটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছি, উনারা এখন হচ্ছে অভিযোগ দিয়েছেন উনারা কোন মামলা করেননি তো মামলা হলে তদন্তকারী অফিসার নিয়োগ করা হবে তখন এটি আরো গভীরভাবে তদন্ত করা হবে তখন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে,
ভুক্তভোগী মারিয়া আক্তার বলেন, আমাদের প্রায় সবকিছু নিয়ে গেছে। আমরা এখন প্রায় দিশেহারা। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে, তারা যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
অভিযোগকারী পরিবারটি চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।


























