
হাজীগঞ্জে সড়কের উপর ৪২ টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে পাথর ঢালাইয়ের কাজ, স্থানান্তরের অর্থ নিয়ে দোটানায় পল্লী বিদ্যুৎ ও সড়ক বিভাগ


চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজার অংশে পাথর ঢালাই নির্মাণ কাজ চলছে চরম ঝুঁকি ও সমন্বয়হীনতার মধ্য দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যস্ত সড়কে রাস্তার মাঝখানে ও পিচঢালাইয়ের নির্ধারিত অংশে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকরা।
হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, রাতের বেলা দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলের সময় এসব খুঁটি চালকদের চোখে না পড়ার কারণে যেকোনো মুহূর্তে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী হাজীগঞ্জ বাজার ৩১ টি ও বলাখাল বাজারে ১১ টি সহ ৪২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তর করা জরুরি। খুঁটিগুলো অপসারণ না করেই তড়িঘড়ি করে সড়ক ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।


হাজীগঞ্জ সড়ক উপ-বিভাগ থেকে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার বরাবর পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবিলম্বে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তর করতে বলা হয়।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশল ভুঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘এখানে বলা আছে স্পষ্টভাবে আমাদের যদি সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি আবার প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা ৪৫ দিনের মধ্যে এটা নিজ দায়িত্বে সরায় নিতে বাধ্য হবেন এবং সেটা করার জন্য তাদেরকে আমি লাস্ট যে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় মিটিংয়ে এই ব্যাপারটা নিয়ে অবগত করলাম। সেই মিটিংয়ে জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে সবকিছু শোনার পরে এবং বিদ্যুৎ অফিসকেই এটাকে সরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের যদি অর্থসংকট থাকে সে ব্যাপারে তিনি সুপারিশকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করবেন।’
এদিকে প্রথমে এর জবাবে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পক্ষ থেকে তাদের নিজস্ব কোনো বাজেট বরাদ্দ না থাকায় এই খুঁটি স্থানান্তরের কাজ সরাসরি করা সম্ভব নয়। খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় বাবদ মোট ২২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা প্রয়োজন।
পরে জেলা প্রশাসকের পরামর্শে অর্থের জন্য সোমবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার গোবিন্দ আগারওয়ালা।
তিনি বলেন, ওখানে রোডসের এক্সিয়েন মহোদয়; বিষয়টাকে অবগত করার পরে ডিসি স্যার আমাদেরকে বললেন, আপনি আপনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি লেখেন এবং অনুলিপি আমাকে দেন একটা। আমরা কি করতে পারি দেখি চেষ্টা করি। আমি সেপেক্ষে দিয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখছি এবং যোগাযোগ রাখছি কাজটা কিভাবে দ্রুতগতিতে করা যায় এবং সমস্যার সমাধান করা যায়।’
দুটি সরকারি দপ্তরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়হীনতা এবং চিঠি চালাচালির দীর্ঘসূত্রতার কারণে কোটি কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল ব্যাহত হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উভয় দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে এই জটিলতার অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ দূর করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

























