
শাহরাস্তিতে রাতে ঘোরাফেরায় ৫ শিক্ষার্থী ও ৩ পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ আটক ৮


চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতে অযাচিত ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে পাঁচ কলেজ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। একই রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে আদালতের সিআর (CR) পরোয়ানাভুক্ত আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহরাস্তি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, এসআই মোহাম্মদ আল আমিন ভূঁইয়া ও এসআই মো. জাকির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মেহের স্টেশন এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় রাতে কোনো কারণ ছাড়াই সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে পাঁচ তরুণকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—মো. হোসাইন রূপক (২২), আজমীর হোসাইন (২১), মো. ফরহাদ হোসেন (২১), আবু বক্কর সিদ্দিক ফাহিম (১৯) এবং মিরাজ হোসেন (২১)।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষার্থীরা রাতে মেহের স্টেশন এলাকায় অবস্থানের কোনো সন্তোষজনক বা বৈধ কারণ দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে তাদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে তাদের রাতে এ ধরনের অযাচিত ঘোরাফেরা থেকে বিরত রাখার মুচলেকা ও আশ্বাস দিলে, থানায় কোনো রেকর্ড বা সিডিএমএস (CDMS)-এ বিরূপ তথ্য না পাওয়ায় প্রথমবারের মতো সংশোধনের সুযোগ দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরোয়ানাভুক্ত ৩ আসামি গ্রেপ্তার:
এদিকে রাতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শাহরাস্তি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সেনগাঁও এলাকার রমজান আলী মেম্বার বাড়ি থেকে কুলছুমা আক্তার ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তার সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সিআর-২৬৩/২৫ (শাহরাস্তি) মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
এছাড়া উপজেলার দেবকরা এলাকার বেপারী বাড়ি থেকে মো. ইউসুফ (৪০) নামের আরও এক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সিআর-২৩০/২৬ (শাহরাস্তি) মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কুলছুমা আক্তার ও আয়েশা আক্তার সুমিকে পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মো. ইউসুফকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিশোর ও তরুণদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি এড়াতে রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”




























