
সৌদি আরবে চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার ও নির্যাতন: চক্রের সদস্য সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার


সৌদি আরবে ফাস্টফুড দোকানে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের পর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট (টিএইচবি)।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. সালমান হোসেন (৩৩)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর গ্রামের মো. শহীদ শেখের ছেলে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই পাচারকারী চক্র। গত বছর তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও চুক্তি অনুযায়ী চাকরি না দিয়ে একটি বাসায় আটকে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে আকামা বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও অর্থ দাবি করা হয় এবং টাকা আদায়ের জন্য তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন। পরে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হয়ে চলতি বছরের ২২ জুলাই দেশে ফেরত আসেন তিনি। দেশে ফিরে ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত সালমান হোসেন এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে সালামানের বাসাতেই আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিআইডির মানবপাচার শাখা জানায়, এ চক্রের দেশি-বিদেশি সহযোগী ও অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে না পড়ে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের মতো কোনো সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।


























