
কুবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস টাইমে বৈষম্য


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস আসার সময় নিয়ে বৈষম্য দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মচারীরা।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৮৫তম সভায় শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা এগিয়ে ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অফিস কার্যক্রম চালুর সময় না এগিয়ে বরং ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা সময় কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে একাডেমিক বিভিন্ন বিভাগের অফিস সহকারীদের সকাল ৭টায় আসতে বলা হয়েছে। কর্মচারীদের ওভারটাইম দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য জানায়নি প্রশাসন। ফলে কর্মচারীরা পরিবহণ না পেয়ে নিজেদের ভাড়ায় অফিসে আসছেন।


বাংলা বিভাগের অফিস সহকারী কাম ডাটা প্রসেসর মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আমাকে সকাল ৭টায় আসতে বলা হয়েছে এবং ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা ওভারটাইম করতে বলা হয়েছে। দুই ঘণ্টা ওভারটাইম করলে আমি পাব ৭০ টাকা। কিন্তু আমার গাড়ি ভাড়া খরচ হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি। প্রশাসন পরিবহণ না দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়?
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওভারটাইমের কথা বললেও মূলত বাড়তি সময়টুকু কর্মচারীদের অফিস টাইম হিসেবে নির্ধারণ করেছে। কারণ একাডেমিক এসব অফিস সহকারীরা এখন চাইলেই ৯টায় আসতে পারবে না৷ যেহেতু ক্লাস টাইম ৮টায় নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজেই অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের তুলনায় তারা বৈষম্যের শিকার।
নতুন ক্লাস টাইম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেহেদী হাসান মুন্না নামের গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ক্লাস ৯টা ১৫ মিনিট থেকে। যে কারণে ৭টার বাসে শহর থেকে আসা লাগছে যা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এক ঘণ্টা আগানো হয়েছে ঠিকই। কিন্তু যারা শহরে থাকে ওদের ভোগান্তি বেড়েছে।
এদিকে অফিস টাইম কমানো এবং ক্লাস টাইম এগিয়ে আনার বিষয়ে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমান মাহবুব বলেন, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮টা থেকে ৪টা অফিস এটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এখানে যে সমস্যাটা হচ্ছে সেটা হলো শিক্ষকরা আসছে ৮টায় আর প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তারা আসছে ৯টায়। যেটা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টা এক দেশে দুই নীতির মতো। তাই আমার মনে হয় এই পদ্ধতিটা রিভার্স করা দরকার।
H/N







