
কুমিল্লায় ইফতার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০


কুমিল্লার দেবীদ্বারের একটি মসজিদে ইফতার বিতরণ নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি দক্ষিণ পাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় ওই মসজিদে ইফতারের আয়োজন করে মসজিদ কমিটি। ইফতার বিতরণকালে একই গ্রামের শাহ আলম মিয়ার ছেলে বাবুকে (১০) ইফতার কম দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মসজিদ প্রাঙ্গণেই মারামারি হয়। বিষয়টি মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম মাগরিবের নামাজের পর মীমাংসা করার আশ্বাস দেন। নামাজ শেষে সভাপতিসহ অন্যরা মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় শহিদ মিয়ার ছেলে হাবিবুল্লাহ একটি লাঠি নিয়ে আচমকা মসজিদের কোষাধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ছয়জন আহত হন।
আহতদের চিকিৎসার জন্য দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কমপ্লেক্সের ভেতরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ১০-১২ জন আহত হয়। এসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংঘর্ষকারীরা সাংবাদিক শাহীন আলম ও আব্দুল আলিমের ওপর হামলা করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আহত সাংবাদিক শাহীন আলমসহ গুরুতর আহতদের দেবীদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


এদিকে ইফতার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ মঙ্গলবার দেবীদ্বার থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। ভিংলাবাড়ি গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ জসিম বাদী হয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলামসহ ১১ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। অপর পক্ষে তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ আরো ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।
দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ‘ইফতার বিতরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এ বিষয়ে দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
E/N








