
ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কি?


অল্প সময় বলতে অল্প, হাতেগোনা ক’টা দিন। মাঠে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি এখন জামায়াতকে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভাবছে। এটাকেই বলা হয় ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। যা আদর্শিক নয়।
অথচ একমাস আগেও জামায়াতকে বিএনপি তার মিত্র ভাবতো। বা জামায়াত তাদের ঘোষিত-অঘোষিত নির্বাচনী বা আন্দোলনের জোটসঙ্গী ছিলো। পটভূমি ও বাস্তবতার উপরই রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ হয়ে থাকে। যা এই মুহূর্তে লীগের পতনের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা যায়।
অবশ্য রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি, পাবলিক পারসেপশনকে ধারণ করে স্থায়ী বা অস্থায়ী কর্মনীতি এবং কৌশল নির্ধারণ করে নিজেদের এগিয়ে নিতে পারলে রাজনীতির মাঠে এগিয়ে থাকা যায়। আওয়ামী লীগের পতনের পর দ্রুতই জামায়াত জনসম্পৃক্ত ও জনহিতকর কর্মসূচিতে মনোযোগ দেয়। যা অনেকটা জনকল্যাণ বা সামাজিক কর্মতৎপরতা বলা যায়।


এছাড়া শুরুতে বিপ্লবী সরকারকে সহযোগিতা করার দৃশ্যমান তৎপরতা, তাদের স্থিতি কামনা এবং যৌক্তিক সময়ে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে জামায়াতের স্পষ্ট অবস্থান বলা যায় সরকার ও জনগণের কাছে ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা পায়। এছাড়া রাজনৈতিক শত্রু-মিত্রের বিষয়ে জামায়াতের পলিটিক্যাল পিউর কালচারাল ম্যাসেজ জনগণের কাছে ইতিবাচক সাড়া পায়।
অথচ উল্লেখিত বিষয়গুলোর সব পর্যায়ে বিএনপির অবস্থান ছিলো অদূরদর্শী। ফলে লীগহীন রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে ছাপিয়ে জামায়াতের আলোচনায় উঠে আসাকে বিএনপি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। অবশ্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিপ্লবী সরকারের স্থিতিকাল, তাদেরকে যৌক্তিক সময়দানের ব্যাপারে বিএনপি তাদের প্রথমদিকের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। একইসঙ্গে একটু দেরি হলেও আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বন্যা দুর্গতদের বিষয়ে মনোযোগী হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের বিষয়ে জামায়াতের দলগত প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়কে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী বা অনুসারীরা। এই নিয়ে বিএনপি সমর্থক নেটিজনরা জামায়াতকে ধোয়ামোছার কাম সারছে বলা যায়। আসলে এই মুহূর্তে জামায়াতের রাজনীতির নানান ম্যাসেজ ও তৎপরতা দলটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি যে তৈরি হয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। জামায়াতকে মোকাবিলায় আদর্শিক ও জনহিতকর কর্মসূচির বাইরে বিগত দিনের আওয়ামী লীগের পলিটিক্যাল কালচার গ্রহণ অথবা তাদেরকে আক্রমণ বা ঠেকানোর কৌশল নিলে বিএনপি যে ভুল করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে বিএনপিকে জনবান্ধন কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে সরব থাকা সমীচীন মনে করি। শুধু শুধু জামায়াতকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে রাজনৈতিক শত্রুতা বৃদ্ধির জায়গাকে সম্প্রসারণ না করাই শ্রেয় হবে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
প্রতিপক্ষকে শক্তি ও শত্রুতার বিচারে মোকাবিলা করা ভুল হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আদর্শিক ও জনহিতকর-জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমেই মোকাবিলা করার পদক্ষেপ থাকা চাই।
(লেখাটি জাকির মজুমদারের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া)




























