
ফরিদগঞ্জে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী সাময়িক বরখাস্ত


চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।
সোমবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে অভ্যন্তরীণ অডিটে তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই কবির আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, কোচিং সিন্ডিকেট, শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বিদ্যালয়ের ফান্ড তছরুপের অভিযোগ ওঠে। এতে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা নেমে আসে। অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশ পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারীর সন্দেহ হলে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ক্যাশ বই ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই করে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী কর্তৃক ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়।
বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী বিধিমালা ৪.১৭ বিধি অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে গত ১৮ অক্টোবর তাঁদের সাত দিনের মধ্যে সমুদয় অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। তবে তাঁরা চিঠি গ্রহণ বা টাকা ফেরত না দেওয়ায় সোমবার ম্যানেজিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে (এক সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন) তাঁদের দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সাময়িক বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি সোহেল বেপারী বলেন, “আমরা আপাতত শুধু বড় অংকের অনিয়মগুলোর হিসাব করেছি। ফরিদগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াতে ২০ হাজার টাকা কিংবা কুমিল্লা যাতায়াতে ১০ হাজার টাকা বিল দেখানোর মতো অনেক ছোট ও ভুয়া হিসাব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে অফিস সহকারী প্রায় নয় মাস প্রবাসে কাটিয়েছেন, যা পরে অবৈধভাবে বৈধ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান, জাহিদ ও সোলায়মান পাটওয়ারী জানান, হিসাব-নিকাশে গরমিল থাকার বিষয়টি সত্য এবং পূর্বে নামমাত্র অর্থ কমিটি থাকলেও কোনো সঠিক তদারকি ছিল না।
এদিকে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ বলেন, “আমার নিম্ন গ্রেডের কেউ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করার এখতিয়ার রাখে না। তাই আমি কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি এবং এক টাকাও আত্মসাৎ করিনি।”
অন্যদিকে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো চিঠি নিইনি এবং বিদ্যালয়ের এক টাকাও আত্মসাৎ করিনি। বিদ্যালয়ের অর্থ কমিটিই যাবতীয় হিসাব-নিকাশ দেখভাল করেছে।”



























