
প্রতিকূলতা পেরিয়ে ‘উড়াধুড়া’ খ্যাত অন্তরার সাফল্য, গর্বিত শাহরাস্তিবাসী


‘তুমি কোন শহরের মাইয়া গো, লাগে উড়াধুরা’—জনপ্রিয় এই গানের মাধ্যমে দেশজুড়ে দারুণ পরিচিতি পেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী দেবশ্রী অন্তরা রায় চৌধুরী। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘তুফান’-এর এই জনপ্রিয় গানটির শিল্পী অন্তরার জন্মভূমি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সাহাপুর চৌধুরী বাড়িতে। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে নিজের জন্মভূমিতে এসে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর শৈশব, সংগীতজীবনের সংগ্রাম, প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরেন। জাতীয় সংগীতাঙ্গনে অন্তরার এই অর্জনে শাহরাস্তিবাসীও গভীর গর্ব অনুভব করছে।
অন্তরার গানের যাত্রা শুরু মাত্র তিন-চার বছর বয়সে, পারিবারিক সাংস্কৃতিক আবহে। রবীন্দ্রসংগীত অনুরাগী বাবা ও নৃত্যশিল্পী মায়ের উৎসাহে সংগীতাঙ্গনে পা রাখা অন্তরার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় ছায়ানটে, যেখানে তিনি নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত ও লোকসংগীতে চার বছর প্রশিক্ষণ নেন। তবে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়ার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৬ সাল থেকে একাধিক মৌলিক গানের প্রজেক্ট হাতছাড়া হওয়া, পছন্দসই গান থেকে বাদ পড়া এমনকি কাজের নামে অর্থ দাবির মতো নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এসব প্রতিকূলতার মাঝেও হার না মেনে ২০২২ সালে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে ‘প্রেমে পড়া মন’ ও পরবর্তীতে ‘মন বোঝে না’ গানের মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
তবে ‘তুফান’ ছবির ‘লাগে উড়াধুরা’ গানটি অন্তরার ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। সংবাদ পাঠের ব্যস্ততার মাঝেই প্রীতম হাসানের স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং হয়েছিল, যা মুক্তির পর অভাবনীয় শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। সংগীতে সাফল্য সত্ত্বেও এটিকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে না নেওয়ার পেছনে বাস্তবসম্মত কারণ ব্যাখ্যা করে অন্তরা জানান, শিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা এড়াতেই তিনি সংবাদ পাঠ, চাকরি ও শিক্ষকতার পাশাপাশি গান চালিয়ে যাচ্ছেন, যেন স্বাধীনভাবে শিল্পচর্চা করা যায়।


সাক্ষাৎকারে শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাদ্দাম হোসেন মিঠু জাতীয় পর্যায়ে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড–২০২৬’ অর্জন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানান এই শিল্পী। জন্মভূমির প্রতি গভীর টানের কথা ব্যক্ত করে অন্তরা জানান, শাহরাস্তির যেকোনো ভালো আয়োজনে তিনি সবসময় পাশে থাকতে চান। সংগীতের এই দীর্ঘ পথচলায় নিজ এলাকার মানুষের কাছে ভালোবাসা ও দোয়া প্রত্যাশা করেন এই উদীয়মান কণ্ঠশিল্পী।




























