
ইয়াবার আসরে নতুন পিস্তল দেখাতে গিয়ে ‘মিস ফায়ার’ নিহত যুবক


ইয়াবা সেবন করে নতুন কেনা ‘অবৈধ অস্ত্র’ বিভিন্ন কায়দায় দেখাতে গিয়ে হৃদয় নামে মাদককারবারির ‘মিস ফায়ারে’ শেখ মোহাম্মদ আজাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। তাকে গুলি করা হয়নি। তবে তারা তিনজনই নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত শেখ মোহাম্মদ আজাদের পিতা নুরুল রশিদ বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পাঁচলাইশ থানা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, আজাদ, গুল্লু বাবু, ইসহাক ও হৃদয় নামে তিন যুবক ঘটনাস্থল তথা পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়ির ভেতরে ইয়াবা সেবন করছিলেন। নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বের করে নতুন কেনা অস্ত্র নেড়েচেড়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পিস্তল থেকে গুলি বের হয়ে আজাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজাদ পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার মওলানা আব্দুল হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ির বাসিন্দা মো. নুরুল রশীদের ছেলে। তিনি একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হৃদয়, গুল্লি বাবু, ইসহাক ও আজাদ শিকার আজাদ পাঁচলাইশ থানাধীন ফরেস্ট গেট ও আশপাশের এলাকায় নানা অপরাধে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে গুল্লু বাবু শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতক বহুল আলোচিত সাজ্জাদের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গুল্লি বাবু এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধেও নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
কিছুদিন আগে হৃদয় একটি পিস্তল কেনেন। বুধবার মাদক সেবনের আড্ডায় হৃদয় ও গুল্লু বাবু নতুন কেনা অবৈধ পিস্তল বিভিন্ন কায়দায় দেখাতে গিয়ে হঠাৎ মিস ফায়ার হয়ে আজাদ গুলিবিদ্ধ হন। এতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আজাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ইসহাককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ইসহাককে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক জানিয়েছেন- আজাদকে গুলি করা হয়নি। তার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধও ছিল না। নতুন কেনা অবৈধ পিস্তল দেখাতে গিয়ে অসাবধানবশত গুলি বের হয়ে আজাদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইসহাক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী সন্ত্রাসী চক্রের বিষয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন পুলিশকে। পুলিশ এখন সেই সব তথ্য বিশ্লেষণ করছে বলে জানা গেছে।
পাঁচলাইশ থানার এসআই নুরুল আবসার যুগান্তরকে জানান, আজাদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে তাদের টিম। ইসহাকও নানা তথ্য দিয়েছে। নতুন অবৈধ পিস্তল প্রদর্শন বা বিভিন্ন কায়দায় দেখাতে গিয়ে আজাদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের পিতা নুরুল রশীদ বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইসহাককে আদালতে পাঠিয়েছি। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।








