
কচুয়ায় গৃহবধূর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের বিচারের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
Link Copied Successfully!

ঢাকার কদমতলী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায় কচুয়া উপজেলার চানপাড়া গ্রামের আলী আক্কাছের মেয়ে শাহীনুর আক্তার(২৫) আত্মহত্যার ঘটনায় ৫ লক্ষ টাকার মাধ্যমে রফাদফার অভিযোগ উঠেছে কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হারিছ বেপারীর বিরুদ্ধে।
রোববার উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের চানপাড়া গ্রামে গৃহবধূর বাবার বাড়িতে এলাকাবাসীর আয়োজনে সর্বস্তরের জনগনের অংশগ্রহনে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকান্ডে জড়িতদের সুষ্ঠ বিচারের দাবী করে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ।
মানববন্ধন শেষে শাহীনুর আক্তারের ভাই মানিক মিয়া জানান, আমার বোনকে তার স্বামী মাদকাসক্ত জুয়েল প্রায়ই মানষিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। পাথৈর এলাকার ইউপি সদস্য মো.হারিস বেপারী ও বিএনপি নেতা ইকবালসহ ঘটনার মধ্যস্থতার নামে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে আমার বোনের হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যার নাটক সাঁজিয়ে রফাদফা করে।
নিহত গৃহবধূ শাহীনুরের মা মেয়ের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবী জানান।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের চানপাড়া গ্রামের আলী আক্কাসের মেয়ে শাহীনুর আক্তারের সাথে পারিবারিক ভাবে পাথৈর ইউনিয়নের ফতেবাপুর গ্রামের হারুনের ছেলে জুয়েলের সাথে ৪ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। সাংসারিক জীবনে আড়াই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর জুয়েল তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা কদমতলীতে বাসাবাড়া নিয়ে বসবাস করতো। ৩০ জানুয়ারী মঙ্গলবার সঙ্গাহীন অবস্থায় শাহীনুর আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। এসময় তাঁর লাশ হাসপাতাল মর্গে রেখে চারদিন ধরে প্রকৃত ঘটনাকে দামাচাপা দিতে ইউপি সদস্য হারিছ বেপারীর মাধ্যমে গৃহবধূর পরিবার ও তাঁর শশুর পক্ষের লোকজান ৫ লক্ষ টাকার মাধ্যমে রফাদফা করে । রফাদফা শেষে চারদিন পর শুক্রবার গৃহবধূর লাশ বাবার বাড়ি চানপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রোববার পাথৈর ইউনিয়নের ফতেবাপুর গ্রামে নিহত গৃহবধূর স্বামীর বাড়িতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়েলের পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ইউপি সদস্য হারিছ বেপারীর মোবাইল ০১৭৩৬৭৪৭২৪২ নাম্বারে সকাল থেকে একাধিক নাম্বার থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোনে কল রিসিভ করেননি।
ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাছ মোল্লা মোবাইল ফোনে জানান, হারিছ বেপারী ও বিএনপি নেতা ইকবালসহ অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফার কথা লোকমুখে শুনেছি।
চানপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য মো.ইসমাইল হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, আমার গ্রামের সু-শিক্ষিত মেয়ে শাহীনুর বেগমের হত্যার বিষয়ে এলাকার মানুষের সাথে আমিও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী শাহিনুরের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।








