
চাঁদপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে মারধর


চাঁদপুর সদর উপজেলায় মুন্নি বেগম ও খোকন তালুকদার দম্পতির দীর্ঘ ২২ বছর সংসার করার পরও গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য মারধর করলো স্বামী খোকন তালুকদার।
নানুপুর চৌরাস্তা খালপার বাগড়া বাজারের শামসুল হক মিয়ার বাড়িতে গেল সোমবার সকালে একটি ভাড়া বাড়িতে মারধরের ঘটনা ঘটে।
মুন্নি বেগম (৪০) জানান, আমার বিয়ের সময় আমার স্বামীকে আমার পরিবার থেকে যৌতুক দেওয়া হয়। স্বামী খোকন তালুকদার প্রায় রাতেই নেশা করে এসে আমাকে বিভিন্ন ভাবে মারধর করে এবং যৌতুকের টাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। আমার স্বামী খোকন তালুকদারকে একাধিকবার আমার ভাইদের থেকে টাকা এনে দেই। তারপরও সে আমাকে মারধর করে। বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমার স্বামী বিয়ের ৮-১০ বছর পর আমার পেটে লাথি মেরে আমার সাত মাস অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আমার পেটের বাচ্চাকে মেরে ফেলে।


এমত অবস্থায় আমি আমার বাপের বাড়িতে চলে আসি। আমার স্বামীর পক্ষে আত্মীয়-স্বজনরা ও মেম্বার চেয়ারম্যান সহ সালিশ করে আমাকে আমার বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে যায় এবং আশ্বাস দেয় আমার স্বামী আমাকে আর কোনদিন কোন ধরনের নির্যাতন অত্যাচার করবে না। তার কিছুদিন পরে আবার শুরু হয়ে গেল সে মারধর।
তিনি আরো বলেন, গেল রবিবার আমার স্বামী খোকন তালুকদার ২ লক্ষ টাকার জন্য আমাকে ও আমার বড় ছেলেকে আমার বাবার বাড়িতে পাঠায়। আমার বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় আমি টাকা মিলাতে পারিনি এবং আমি স্বামীর ভাড়া বাড়িতে ফিরে আসি। আসার পরপরই আমার স্বামী আমাকে জিজ্ঞেস করল টাকা কই, টাকা দে। আমি বললাম আমি আমার ভাইদেরকে বলছি ওরা টাকা মিলিয়ে দিতে পারেনি। তখন আমার স্বামী খোকন তালুকদার আমাকে জি আই ফাইভ দিয়ে মারধর করে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে থেতলে দিয়েছে। দরি দিয়ে হাত পাও বেঁধে মুখে চাপ দিয়ে মেরে ফেলতে চায়। তখন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
খবর পেয়ে আমার ভাইয়েরা আমাকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার স্বামী খোকন তালুকদার আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এই নিয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ ব্যাপারে কয়েকবার খোকন তালুকদারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে। কোনভাবে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।








