
সৌদিআরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হাজীগঞ্জের কবির


শিশু ফাতেমা এখনো জানে বাবা আছে :- সৌদির কবরে সড়ক দুর্ঘটনায আহত হাজীগঞ্জের কবির! দশলাখ টাকা ঋন করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন কবির। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান তিনি। কিন্তু ফাতেমা জানে তার বাবা এখনো আছেন।
কথা বলেন মোবাইলে। এমন তথ্য শনিবার তার বাড়িতে সরজমিনে গিয়ে সত্যতা মিলে। হাজীগঞ্জ উপজেলা গন্ধব্যপুর দক্ষিন ইউনিয়নের পয়ালজোষ গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন (৪৫)। স্ত্রী, ২ ছেলে ২ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। কিছু দিন বিভিন্ন বেকারিতে চাকুরি করে সংসারের হাল ঠিক মত ধরতে পারেনি সে। সমান্য কিছু ঋন তাকে জড়িয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে তার ঋনের মাত্রা বেড়ে যায়। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয় বিদেশে পাড়ি দিবে। আবারো তার ঋণ।
এবার প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবের তাঁবুতে চাকরি নেয়। সৌদি আরবের তাবুতে এসে চাকরিতে অংশগ্রহণ করে। চাকরিতে থাকাকালীন। প্রবাস জীবনের ৬ মাসের মাথায় জানুয়ারি ২০২৪ মাসে সৌদি আরবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়। বেশ কিছু দিন হাসপাতাল থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের ছাকা ঘুরেনি। টাকার অভাবে নিজের দেহটিও পর্যন্ত দেশের মাটিতে আনা হয়নি। সৌদি আরবে তার দাফন সম্পন্ন হয়।


কিন্তু ১০ লাখ টাকার ঋণ তার মাথায় রয়ে যায়। স্ত্রী আয়শা বেগম, দুইছেলে রবিউল (১৮) হৃদয়( ১২)দুই মেয়ে শিখা( ২০) শিশু ফাতেমা এই দশ লাখ টাকার ঋণ মাথায় নিয়ে এখন হাউমাউ করে কাঁদছে। স্ত্রী দুই ছেলে দুই মেয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। আর ঋণ প্রাপ্তরা প্রতিনিয়ত এসে পরিবারটির উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছে ।
ছোট্ট শিশুটি বাবাকে দেখেনি কিন্তু বাবার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং গন্ধব্যপুর দক্ষিন ইউনিয়নের পয়াল জোস গ্রামে গিয়ে। পরিবারটিকে বাঁচাতে বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া দরকার বলে মনে করেন এলাকাবাসী।








