
মতলব থেকে মানব পাচারকারীদের অর্থের যোগানদাতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১


মতলব থেকে মানব পাচারকারীদের অর্থের যোগানদাতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১| শুক্রবার দিবাগত রাতে কুমিল্লা র্যাব-১১ এর একটি অভিযানে মতলব দক্ষিণ উপজেলার বেলুতি গ্রামের আজমত উল্ল্যাহর ছেলে মোঃ লিটনকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ৮ জুলাই কুমিল্লা র্যাব-১১ এর কাছে রাজধানীর আশুলিয়া গোহাইল বাড়ির এলাকার পারুল বেগম একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার আপন ভাই মোঃ জনি (২৮) বিগত দেড় বছর যাবত ওমান কর্মরত। ওমানে থাকা অবস্থায় ওমান প্রবাসি (বাংলাদেশি) মোঃ তাহের মিয়া তুষার তার ভাইকে উন্নত জীবন যাপনের প্রলোভন দেখিয়ে তুরস্কে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। সেখান থেকে তার ভাই তুষার এর মাধ্যমে তুরস্কে যাবার কথা বলে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। কিছু দিন পরে অজ্ঞাত ব্যাক্তি তার ভাইকে আটকে রেখে মারধর করে তার কাছে ভিডিও কল দেয়। তাদের নিকট ৭ লাখ টাকা দাবি করে, না দিলে তার ভাই কে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা টাকা দেওয়ার জন্য তার নিকট একটি ব্যাংক একাউন্ট ও একটি বিকাশ নাম্বার দেয়। তাদের কথা মতো বিকাশে ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক একাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে। তারা আরো টাকার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে এবং অবশিষ্ট টাকার জন্য তার ভাইকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংক একাউন্টটি চাঁদপুরের, তাই কুমিল্লা র্যাব অফিসে অভিযোগ করেন পারুল বেগম।
কুমিল্লা র্যাব-১১ উপ-পরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেনের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগকারীর দেওয়া ব্যাংক একাউন্ট এর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ব্যাংক একাউন্ট থেকে নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে গত ৭ জুলাই ব্যাংক একাউন্টের মালিক মোঃ লিটনকে আটক করে। আটক লিটন ওমান প্রবাসী। সে গত ২৬ জুন বাংলাদেশে ছুটিতে এসেছে এবং পুনরায় ২৫ জুলাই চলে যাবার কথা ছিল। ওমানে সে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কাজ করে এবং এই চক্রের টাকা আদান প্রদানের সাথে সে জড়িত।
আটক লিটনের দেওয়া তথ্যমতে র্যাব-১১ জানান, ভিকটিম ওমানে থাকা অবস্থায় মোঃ তাহের মিয়া তুষার নামের এক দালালের পরিচয় হয়। তুষার ভিকটিম কে প্রথমে ইরানে পাঠায়। ইরানে সুমন নামে অন্য একজন দালাল ভিকটিম জনি কে রিসিভ করে। ইরান থেকে দালাল সুমন কর্তৃক তুরস্কে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দালাল সুমন ভিকটিমকে তুরস্কে প্রেরন করলে তুরস্কের দালাল সাইফুল এবং রানা ভিকটিমকে রিসিভ করে। এভাবে ওমান থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়। সংঘবদ্ধ চক্রটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে প্রেরণ করে এবং মাঝখানে তাদের জিম্মি/আটক করে মারধর করে তাদের পরিবারের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
কুমিল্লা র্যাব-১১ উপ-পরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। মানব পাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পপুলার বিডিনিউজ, চাঁদপুর।



























