
দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক


সম্প্রতি এক মিডিয়া রিপোর্টে দেখলাম, হাসপাতালে এক নিউমোনিয়া রোগীর ক্ষেত্রে প্রদত্ত কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করছে না। এ নিয়ে চিকিৎসকরা চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এমন পরিস্থিতির যে উদ্ভব হবে, এ ধরনের পূর্বাভাস আমি আমার লেখায় বহু আগে থেকে দিয়ে আসছিলাম। মুশকিল হলো, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্টের ভয়াবহতার কথা কেউ অনুমান করতে পারছে না। আর পারলেও কেউ তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। করোনা সংকট সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। করোনা শুরুর পর থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বেগজনক সংবাদ প্রচার করেই চলেছে। কেউ কান দিচ্ছে না। কিছুদিন আগে ‘The world is running out of antibiotics’ শিরোনামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, অতিদ্রুত পৃথিবী থেকে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ‘অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্টস ইন ক্লিনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট পাইপলাইন ইনক্লুডিং টিউবারকোলোসিস’ শীর্ষক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বাজারে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আসা স্থবির হয়ে গেছে। যেসব অ্যান্টিবায়োটিক প্রচলিত আছে, তার বেশিরভাগই এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যে হারে জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে সে হারে নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হচ্ছে না। যে গতিতে পৃথিবী থেকে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, তাতে করে অচিরেই চিকিৎসকদের সংক্রামক রোগ চিকিৎসায় হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে। রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু সংক্রমণের ভয়ে অতি নগণ্য সার্জারি করতেও চিকিৎসকরা সাহস পাবে না। বর্তমানে বাজারে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যাচ্ছে তা পুরোনো বা প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের সংক্ষিপ্ত রাসায়নিক রূপান্তর মাত্র। এসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে এগুলো কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না বা পারবে না। বর্তমান বিশ্বে কয়েকটি জীবাণু অত্যন্ত ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।এসব জীবাণুর মধ্যে রয়েছে ই. কোলি ও মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকলোসিস। মূত্রনালি সংক্রমণ ও যক্ষ্মার জন্য এ দুটি জীবাণু মূলত দায়ী। মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিউবারকোলোসিসের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১২ প্রজাতির জীবাণু শনাক্ত করেছে। এসব জীবাণুর কয়েকটি অতি সাধারণ নিউমোনিয়া ও মূত্রনালি সংক্রমণের জন্য দায়ী। এসব জীবাণুর বিরুদ্ধে ইদানীং কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিশ্বব্যাপী এক মহাসংকট সৃষ্টি করেছে যা আধুনিক ওষুধ ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তুলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঠেকানোর জন্য নতুন নতুন কার্যকর ওষুধ আবিষ্কারে পর্যাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুবা নতুন নতুন জীবাণু সংক্রমণ থেকে মানবসভ্যতাকে রক্ষা করা দুরূহ হয়ে পড়বে।
সূত্র: যুগান্তর


H/ N



























