
কঠোর লকডাউনে করোনাকে বিদায় দিলো নিউজিল্যান্ড!


গত ৮ জুন সোমবার নিউজিল্যান্ড সর্বশেষ করোনা রোগী সুস্থ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিকে করোনান্মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে আর কোনো করোনা রোগী অবশিষ্ট নেই। কয়েক সপ্তাহ ধরে পৃথিবীর সবচাইতে কঠিন লকডাউন পালনকারী দেশগুলোর একটি নিউজিল্যান্ড। আর এ কঠোর লকডাউন এর মাধ্যমে করোনাকে বিদায় দিল দেশটি। প্রথমে তারা আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। সর্বশেষ আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সমর্থ হয়। দেশটিতে ১হাজার ৫০৪ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ২২জনের মৃত্যু হয়।
এতে স্পষ্ট যে, কঠোর লকডাউনে’র মাধ্যমে করোনাকে বিদায় জানানো সম্ভব।
আমাদের বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। ঢিলেঢালা লকডাউন এবং এদেশের মানুষ লকডাউন না মানার মাধ্যমে বৈশ্বিক মহামারী করোনাকে রীতিমত স্বাগত জানিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল ‘২০ এদেশে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় এই লকডাউন। কিন্তু এদেশের মানুষ লকডাউন না মানায় এদেশে ব্যাপকহারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে।

লকডাউনে’র নামে বেশ কিছু সময় পার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু লকডাউন সঠিকভাবে না মানায় কারণে তা ফলপ্রসূ হয়নি। সত্যিকারের অর্থে কঠোরভাবে প্রথম থেকে এক দেড় মাস লকডাউন মানলে অথবা লকডাউন মানতে বাধ্য করলে এতদিনে হয়তো আমাদের দেশ থেকেও করোনা ভাইরাস বিদায়ের সময় হয়ে আসত। অথচ আমাদের দেশে তার পরিবর্তে বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। গত ১০জুন বুধবার ‘২০ পর্যন্ত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সাস্থ্য অধিদপ্তর এর হিসাব অনুযায়ী আমাদের দেশে নতুন আক্রান্ত ৩ হাজার ১৯০ জন, মোট আক্রান্ত ৭৪ হাজার ৮৬৫ জন।মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জন এবং মোট সুস্থ্য১৫ হাজার ৮৯৯ জন।

গত ৮ জুন সোমবার শনাক্ত ছিল ২ হাজার ৭৩৫ জন। দেশে বিগত কয়েকদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। সুতরাং কবে নাগাদ এর সংক্রমণ কমবে এবং কবে নাগাদ আমাদের দেশ মুক্ত হবে সেটা এখনও অনিশ্চিত। তবে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই সংক্রামক ভাইরাসটির অতি দ্রুত বিদায় না হোক ক্রমান্বয়ে এর সংক্রমনের হার কমবে এটা অন্তত আশা করা যায়। তাই নিজের, পরিবারের তথা দেশের স্বার্থে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই একমাত্র ভরসা।
লেখকঃ সাংবাদিক, শিক্ষক ও চারুশিল্পী



























