
১০০ বছর বয়সী মাকে রাস্তায় ফেলে গেল পরিবার


১০০ বছর বয়সী মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে গেলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শতবর্ষী এই বৃদ্ধা এখন গোপালগঞ্জ সদর থানায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ না পেয়ে শতবর্ষী রাবিয়া বেগমকে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে এখন পাঠানো হবে গাজীপুরের পুবাইল বৃদ্ধাশ্রমে।
সোমবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ শহরের থানাপাড়া মোড়ের ফুটপাতে শীতে কাঁপছিলেন শতবর্ষী বৃদ্ধা রাবিয়া বেগম। এ সময় স্থানীয় রাব্বি নামে এক যুবক তাঁকে দেখতে পেয়ে পার্শ্ববর্তী সদর থানায় নিয়ে আসেন।
এ সময় সদর থানার ওসি মো. আনিচুর রহমান ওই বৃদ্ধাকে কম্বল, সেন্ডেল ও শীতবস্ত্র পরিয়ে দেন। এরপর সকালের খাবার খাইয়ে বৃদ্ধাকে পাঠানো হয় গোপালগঞ্জ সদরের এসিল্যান্ডের কাছে। সদর এসিল্যান্ডের নির্দেশে বৃদ্ধা রাবিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।


যে মা গর্ভে ধারণ করে সন্তানদের পৃথিবীর আলোর মুখ দেখিয়েছেন, সেই মাকে বৃদ্ধ বয়সে বোঝা মনে করে রাস্তায় ফেলে যাওয়ায় স্থানীয়রা একে অমানবিক বলে মনে করেছেন।
জানা যায়, বৃদ্ধা রাবিয়া বেগম শুধু নামটি ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না। বলতে পারেন না নিজের ঠিকানাও। পরিবারের কথা জানতে চাইলে তিনি (বৃদ্ধা রাবিয়া) জানান, ২ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
কীভাবে এই শহরে এলেন জানতে চাইলে রাবিয়া বলেন, এক নারী তাকে ওখানে ফেলে রেখে চলে গেছে। পরিবারের কাছে ফিরবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, বাড়ি ফিরলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এই ভয়ে পরিবারের কোনো কথাই বলতে চায় না বৃদ্ধা রাবিয়া বেগম।
শতবর্ষী এই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো নয় বলে জানান সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিপা বেপারী। তিনি জানান, বৃদ্ধা রাবিয়ার শরীর আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মুহাম্মদ আনিচুর রহমান বলেন, ‘আমরা ওই বৃদ্ধার ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে তার পরিবারের খোঁজ না পাওয়া গেলে তাকে সমাজসেবার মাধ্যমে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুলতানা জাহিদ পারভিন জানান, বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়াকে সমাজের অবক্ষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। আত্মকেন্দ্রিক, কুক্ষিগত ও নিজের স্বার্থের কারণে ঘটছে এমন ঘটনা।
এদিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বৃদ্ধা রহিমাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে গাজীপুরের পুবাইল বৃদ্ধাশ্রমে। সোমবার রাতেই তাঁকে পাঠানো হবে।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
E/N








