
ফরিদগঞ্জে লিগ্যাল এইড কমিটির মতবিনিময় সভায়
অসহায়দের আইনী অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লিগ্যাল এইড : জেলা ও দায়রা জজ


১৩ জুন সোমবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম বিস্তারে ও উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “বিনা খরচে নিন আইনি সহায়তা শেখ হাসিনার সরকার দিচ্ছে এই নিশ্চয়তা” স্লোগানে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা ও দায়রা জজ এবং চেয়ারম্যান জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এস.এম. জিয়াউর রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলার যেই স্বপ্ন দেখেছেন। তার মধ্যে একটি হলো মানুষের মৌলিক অধিকার সমূহ নিশ্চিত করা। তার মধ্যে অন্যতম হলো আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার তথা বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা নিপিড়িত নির্যাতিত এবং আর্থিক ভাবে অক্ষম এমন লোকজনকে তাদের আইনী অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লিগ্যাল এইড সার্ভিস চালু করেন। প্রথমে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করেন। পরে এই কার্যক্রমকে আরো গতিশীল এবং কার্যকর করতে আইন সংশোধন করে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আমরা আজ জেলার বাইরে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে এসেছি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্যেমে কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে।
তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র চাই। যেখানে সকলের মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। সরকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতসহ নানা ভাতা প্রদান করে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে আসছেন। একই ভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যারা আর্থিক ভাবে অসমর্থ তাদের আইনী অধিকার নিশ্চিত করতেই এই লিগ্যাল এইড সার্ভিস। জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটি জেলা জজের নেতৃত্বে এই কমিটি মানুষের এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কিন্তু আমরা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সেই ভাবে সারা পাচ্ছি না। সেই তৃণমূল পর্যায়ে লিগ্যাল এইড এর কার্যক্রম ও এর পরিধি ছড়িয়ে দিতে আমরা এই মতবিনিময় সভা করছি।
তিনি আরো বলেন, অনেকেরই ধারনা লিগ্যাল এইড এর মাধ্যমে শুধু মামলা করার প্রক্রিয়া হয়, তা ভুল । এই সার্ভিসের মধ্যেই মামলার পুর্বে নিষ্পত্তিযোগ্য অভিযোগগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছেন। আমাদের জেলাতেই তা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা সকলে মিলে লিগ্যাল এইড এর কার্যক্রমকে সফলতার পথে এগিয়ে নিবো।
তিনি বলেন, আমরা যদি কল্যানকর বাস্তব পরিকল্পনা করতে পারি তাহলে লিগ্যাল এইড এর কোন বিকল্প নেই। প্রথমে আমাদের লিগ্যাল এইড কি তার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা দিয়ে লিগ্যাল এইড এর কার্যক্রম শুরু করেছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে যে সকল মামলাগুলো আসে সেটা দেওয়ানীমামলা হোক বা ফৌজদারি মামলা হোক আপনারা তাদের সুন্দর পরামর্শ দিবেন। আপনি যে ব্যক্তিই হোন না কেন যখন বিচারকের আসনে বসবেন। তা নিরেপক্ষ তার সাথে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এক কথায় বিচারকগনের কাছে মানুষের আস্তা তৈরি হবে,আপনাদের সকলের প্রচেষ্টায় আমরা সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারবো।


উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমানের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহকারি দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সাকিব হোসেন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ছিলেন জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাছির উদ্দিন সরওয়ার,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তাসলিমুন নেছা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, পিপি অ্যাডভোকেট রনজিত রায় চৌধুরী, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সায়েদুল ইসলাম বাবু, সরকরি কৌশলী এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তছলিম,৮ নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত বিএসসি,৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ, শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা এবং ৮ নং পাইকপাড়া ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি জসিম উদ্দিন পাঠান।
মতবিনিময় সভায় জেলা বিচার বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা আইনজীবি সমিতির নেতৃবৃন্দ, উপজেলা বিভিন্ বিভাগের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সচিব , সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



























