
রায়পুরে সুপারিতে ২৩০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা


লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা উৎপাদিত সুপারি থেকে এবার প্রায় ২৩০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুক্ত পরিবেশ থাকায় এ বছর সুপারিতে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। বাজার মূল্য ভালো থাকায় বাগান মালিকরা ও এখানকার চাষিরা বেশ খুশি। বর্তমানে সুপারির মোকামগুলোতে খুচরা, পাইকারি কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও পাইকাররা।
বাগান মালিকরা জানান, সঠিকভাবে চারা লাগালে ও যত্ন নিলে ৬-৭ বছরের মধ্যে সুপারির ফলন আসবে। কিন্তু সুপারির ভালো ফলন ধরে ১০-১২ বছর পর। প্রতিটি সুপারি গাছ প্রায় ২৫ মি. পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এক একটি গাছে প্রায় ৪-৫টি ছড়া আসতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত এপ্রিল-জুনে সুপারি গাছে ফুল আসে। সুপারি গাছে যখন ফুল আসে তার প্রায় ৮-১০ মাস লেগে যায় ফলন আসতে। প্রতিটি ছড়াতে ১০০-১৫০টি সুপারি থাকে।
রায়পুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সুপারি বাগান করার মধ্যদিয়ে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার এ উপজেলায় সুপারির খুব ভালো ফলন হয়েছে। ভালো ফলন পেতে কৃষকদের ও বাগান মালিকদের সুষম সার প্রয়োগ ও সাথী ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগস্ট থেকে সুপারি আস্তে আস্তে পাকতে শুরু করে, মার্চ পর্যন্ত সুপারি সংগ্রহ করেন চাষি ও বাগান মালিকরা। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২.৫০ টন সুপারি উৎপাদিত হয়।


প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে রায়পুর উপজেলার প্রতিটি বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার দুপাশে, পুকুর পাড়ে সারি সারি সুপারির গাছ লাগানো হয়। বিভিন্ন হাট-বাজারে সুপারিতে ভরপুর, এ যেন এক হলুদ ফুলের মেলা বসেছে। তবে বাজারে সুপারির ভালো দাম পাওয়ায় এবার চুরি আতঙ্কে রয়েছেন চাষিরা। প্রায়ই ঘটছে বাগান থেকে সুপারি চুরির ঘটনা। অনেক স্থানে বাগান মালিকারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। তবে পুলিশ বলছেন, টহল জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
রায়পুর উপজেলার যেসব বাজারগুলোতে সুপারি বেচাকেনা হচ্ছে তার মধ্যে হায়দারগঞ্জ, মিতালিবাজার, বাবুরহাট, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, কাজীর দিঘীর পাড়, চৌধুরীবাজার, ভূঁইয়া রাস্তা, রাখালিয়া, চরপাতা, গাজীনগর, কেরোয়া, মীরগঞ্জ, পানপাড়া, কাপিলাতলী বাজার, সুনামগঞ্জ এবং উত্তর ও দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নসহ প্রায় ২৫টির বেশি সুপারির মোকাম রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঢাকাণ্ডচট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা নিজেদের চাহিদামতো সুপারি স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। রায়পুর থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও প্রায় ৩০ শতাংশ সুপারি বিশ্বের প্রায় ১০-১২টি দেশে রপ্তানি করা হয়। প্রতিবছর সুপারি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদিশিক মুদ্রা আয় করে। এ বছর প্রতি পোন সুপারি (৮০টি) মানভেদে ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা। প্রতি কাউন (১,২৮০টি) ২,৫০০ থেকে প্রায় ২,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
রায়পুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, এ বছর মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুপারিতে রোগ-বালাই তেমন নেই বলেই চলে। প্রায় ৩৫০০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ৯,৩০০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি বিভাগ ও সুপারি বাগান মালিকদের ধারণা।
E/N



























