
চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক আদায়ে অনিয়ম, হারাচ্ছে সরকারি রাজস্ব


চাঁদপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর শুল্ক আদায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতিয়া নদীর মোড় এলাকার রৌশন মেইল থেকে যমুনা রাইস মেইল পর্যন্ত নদীপথে চলাচলকারী মালবাহী জাহাজ, বাল্বহেডসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে নিয়মিতভাবে রশিদ ছাড়া টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র ও নৌযান শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মচারী এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন শত শত নৌযান থেকে নগদ অর্থ আদায় করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হয় না। ফলে আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাৎ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


ঘাট সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, মাঝি ও সুকানীরা জানান, খালি নৌযান থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। আর মালামাল আনলোড বা পরিবহনের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে নৌযান চলাচলে নানা ধরনের হয়রানিরও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নৌযান শ্রমিক বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই টোল বাণিজ্য চলছে। রশিদ চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। অনেক সময় বলা হয় পরে দেওয়া হবে, কিন্তু আর দেওয়া হয় না।
তাদের দাবি, প্রতিদিন এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় হলেও তার বড় অংশই সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হচ্ছে না। ফলে একদিকে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিক ও নৌযান মালিকরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর নদী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলায় বিআইডব্লিউটিএর আওতায় পাঁচটি ঘাটে টোল আদায় করা হয়। কোথাও রশিদ ছাড়া টোল আদায়ের ঘটনা প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে রশিদবিহীন টোল আদায়ের অভিযোগ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা অবিলম্বে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








