
হাজীগঞ্জে ফসলি জমির মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে ইটভাটা


হাজীগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ফাঁদে ফেলে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এক শ্রেণির দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছে। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না তাদের এ ব্যবসা। কৃষকরা বলছেন, মাটি বিক্রির ফলে এখন ওই জমিতে আগের মতো ফসল হচ্ছে না। এতে জমির উর্বরতা হারাচ্ছে ব্যাপক হারে। অন্যদিকে, এসব মাটি ট্রাক দিয়ে পরিবহন করায় গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলো নষ্ট হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ভাটায় ইট তৈরির জন্য এলাকার কৃষকদের ফাঁদে ফেলে তাদের জমির মাটি দালাল চক্রের মাধ্যমে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমিতে আগের মতো ফসল ফলানো যাচ্ছে না। চব্বিশ ঘণ্টা মাটি বহনের জন্য গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক চাকায় পৃষ্ট হয়ে এক থেকে দেড় ফুট দেবে যাচ্ছে।


কৃষকরা ইটভাটার মালিকদের প্রলোভনে পড়ে দেদারসে বিক্রি করছে ফসলি জমির উপরিভাগের টপ সয়েল উর্বর মাটি। এতে ফসলি জমির আবাদ হুমকিতে পড়েছে। কৃষিবিদরা বলেছেন,এভাবে মাটি কাটায় ফসলি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ না হলে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১১ টি ইটভাটা রয়েছে। এ ইটভাটাগুলোতে বছরে কয়েক কোটি ইট পোড়ানো হয়। ইট পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় মাটিভাটার মালিকরা ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে। আবার অনেকে ইটভাটাতে মাটি বিক্রির জন্য কৃষি জমি কেটে পুকুর খনন করেছে। এর ফলে হাজার হাজার একর কৃষি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। ফসলি জমির মালিকরা না বুঝে ইটভাটার মালিকদের প্রলোভনে পড়ে দেদারসে মাটি বিক্রি করছে। কৃষকরা না বুঝে ফসলি জমির এক হাজার মাটি এক হাজার টাকায় বিক্রি করছে। ইট মালিকরা ওই মাটি অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে অনেক গভীর করে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক কৃষক ঘের করার নামে ভাটার মালিকদের মাটি দিয়ে দিচ্ছেন।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩, মাটির ব্যবহার হ্রাসকরণ নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ আছে, ইট প্রস্তুতের জন্য ইটভাটার মালিকরা কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোনো ব্যক্তি ৫ এ উপধারা (১) এ বিধান লঙ্ঘন করে ইটভাটা প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি বা পাহার বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন তা হলে তিনি অনধিক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ইটভাটার মালিকরা এ আইনের তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে,সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে অবৈধ ট্রলি গাড়ি বোঝাই করে শ্রমিকরা দেদারসে মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটাতে নিয়ে যাচ্ছে।
৯ নং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলাম বলেন,জমি কেটে ইট ভাটাতে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ফসলি জমির অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
৫ নং সদর ইউনিয়নের মৈশাইদ গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজ গাজী (৮০) জানান, ‘আমাদের এলাকায় অনেক মানুষ জমির মাটি বিক্রি করে পেলেছে,কেউ সরল জমি কেটে পুকুর করেছে, আমি জমির মাটি কাইটা সর্বনাশ করবো না’।
৬নং বড়কুল ইউনিয়নের আড়–লী গ্রামের সোহেল রানা বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটিতে নিয়ে যাচ্ছে।এতে জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।
হাজীগঞ্জ কৃষি অফিসের কৃষিবিধ মোঃ আজাদ হোসেন বলেন,মাটির ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি উপরিভাগে উর্বরতার বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এ মাটি কাটা হলে ফসলি জমি উর্বরতা হারাবে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিলে মাটির রাসায়নিক উপাদান থাকে না। এতে যেমন জমির উর্বরতা হারাচ্ছে,তেমনি ফসল আবাদে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তার বলেন, ফসলি জমি কেটে নেয়া ফসল উৎপাদনের জন্য হুমকি কিন্তু জমির মালিকরা না বুঝে জমি বিক্রি করছে। ফসলি জমি রক্ষায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


























