
সচেতন নাগরিকদের জন্য জাকির মজুমদারের খোলা চিঠি


প্রিয় হাজীগঞ্জবাসী। আপনারা সকলে অবগত যে, ভৌগলিকভাবে হাজীগঞ্জ উপজেলা চাঁদপুর জেলার মাঝখানে অবস্থিত। ফলে জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে ৬টির সঙ্গে চর্তুদিক দিয়েই সরাসরি হাজীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত রয়েছে। একইসঙ্গে জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলার সাথে হাজীগঞ্জের যাতায়াত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। শুধু তাই নয়, হাজীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলা সদরসহ কুমিল্লার লাকসাম, লাঙ্গলকোর্ট, দাউদকান্দি, বড়ুয়া, মনোহরগঞ্জ ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সরাসরি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদরসহ রামগঞ্জ ও রায়পুরের যোগাযোগ ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে অনেক আগেই। দূরত্বের দিক থেকে নোয়াখালী এবং ফেনী জেলাও হাজীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে বেশি দূরে নয়। এই দুই জেলার সঙ্গেও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি গৌরিপুর-কচুয়া-হাজীগঞ্জ সড়কের বদৌলতে ঢাকার সঙ্গেও হাজীগঞ্জের দূরত্ব কমায় যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে এবং সময় কমে এসেছে। এছাড়া নৌপথ এবং রেলপথও হাজীগঞ্জকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ভৌগলিক, যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হাজীগঞ্জ উপজেলাকে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিক, অবকাঠামোগত, ব্যবসায়িক এবং আর্থ-সামাজিক, শিক্ষা-চিকিৎসা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের উন্নয়নে তেমন কোনো পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আপনারা জানেন যে, জেলার নানান প্রাতিষ্ঠানিক, শিক্ষা ও চিকিৎসা এবং কর্মমূখী অবকাঠামো উন্নয়নের দিক থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলা বৈষম্যের শিকার।
অথচ জেলার মধ্যাঞ্চল হওয়া, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পাশ্ববর্তী উপজেলা ও জেলাগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কম থাকায় হাজীগঞ্জ উপজেলায় আর্থ-সামাজিকসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি রাখে। কিন্তু বরাবরই আমরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
এদিকে হাজীগঞ্জ শহরসহ উপজেলার নদী-খাল দখল ও দূষণে পরিবেশ-প্রতিবেশে দারুন প্রভাব পড়েছে। হাজীগঞ্জ শহর যানজটের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংকোচনের সুযোগে মাদক ও নানা অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব-বিস্তার বেড়ে চলেছে।
বর্ণিত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে উপজেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকান্ডে অবদান রাখতে চাই।


হাজীগঞ্জের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক সমাজ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখা হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা-ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক, রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংগঠনটি শিগগিরই গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ। একটি প্রেসার গ্রুপ হিসেবে উক্ত সংগঠন জনস্বার্থ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিবে। যা স্থানীয় ও উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সহায়ক বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন হিসেবে অবদান রাখবে।
সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় থাকবে হাজীগঞ্জ শহরে। আর এটির আঞ্চলিক কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। যাতে, ঢাকাস্থ হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা সংগঠনটিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারেন। কেন্দ্র নির্দেশিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক কার্যালয় যেন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করণ, বাস্তবায়ন ও সদস্যদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মিলন ও সম্পর্ক স্থাপনে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
আমাদের প্রাথমিক ১১ দফা কর্মসূচি:
১. হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরিপুর সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ এবং সড়কটির বাক কমিয়ে আনা। যাতে ঢাকার সঙ্গে হাজীগঞ্জ উপজেলা তথা কচুয়া, শাহরাস্তি এবং নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজ হয়।
২. হাজীগঞ্জ শহরের যানজট নিরসনে পূর্ব টোরাগড় থেকে পশ্চিম মকিমাবাদ মিঠানিয়াপুলের পূর্ব পাড় পর্যন্ত রেল লাইনের সঙ্গে বাইপাস নির্মাণ করা।
৩. আলীগঞ্জ মজুমদার বাড়ির পেছন থেকে ডাকাতিয়া নদী ঘেঁষে বলাখাল সাবেক খেয়াঘাট (বর্তন বলাখাল-রামচন্দ্রপুর সেতু) পর্যন্ত নদীরপাড়ে মেরিন ড্রাইভ টাইপের সড়ক তৈরি করা।
৪. হাজীগঞ্জ উপজেলায় ফুটবল ও ক্রিকেটসহ খেলাধুলার জন্য মাল্টি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা।
৬. জেলার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশাল ক্যাম্পাসসমৃদ্ধ হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দিয়ে এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও জনবল নিয়োগ করা।
৭. হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০০ শর্যায় উন্নীতকরণের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা উপকরণসহ পরিপূর্ণ শিশু চিকিৎসার জন্য পেডিয়ার্টিক বিভাগ, কার্ডিওলোজি এবং অর্থপেডিক বিভাগ স্থাপন ও জনবল নিয়োগ করা।
৮. ডাকাতিয়া নদী দখলমুক্তকরণ, এর তলদেশ সংস্কার এবং হাজীগঞ্জ শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন খাল দখলমুক্তকরণ, লিজ বাতিল করে জলাবদ্ধতা দূরিকরণ ও পযোনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা।
৯. হাজীগঞ্জে অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি করে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারাখানা গড়া ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
১০. হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের জন্য মানানসই স্থানে কমপক্ষে ২০ শতক জমি বরাদ্দ এবং ভবন নির্মাণ করণ।
১১. হাজীগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং নির্মূল করা এবং কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকান্ড রোধসহ কিশোর সংশোধন কেন্দ্র স্থাপন ও ভাসমান মানুষের জন্য আশ্রয় নিবাস তৈরি করা।
আগ্রহী সচেতন নাগরিকগণ প্রস্তাবিত সংগঠনের একজন সদস্য হয়ে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চাইলে নাম, ঠিকানা, পেশা ও মোবাইল নম্বর ইনবক্স করুন। আলোচনা করতে চাইলে রাত ১০টার পর নিম্মোক্ত নম্বরে যোগাযোগ করুন।
আহ্ববায়ক
জাকির মজুমদার
সাংবাদিক, কলাম লেখক ও সমাজকর্মী
০১৯১৫২৪৩৩৭৫


























