
দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা: দুর্নীতি থামাও, জীবন বাঁচাও -টিআইবি


বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধে জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ’ অনুমোদিত হয়। একই বছর ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডায় উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সনদটি উম্মুক্ত করা হয়। এই স্বাক্ষর প্রদানের গুরুত্বকে
স্মরণীয় রাখতে প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে এবং ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালন ও স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিলো। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক, রাষ্ট্রীয়, সরকারি ও সংশ্লিষ্ট দেশের সকল নাগরিকসহ সকল অংশীজনের- এই মর্মে প্রচারণা ও অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম পালন করা এই দিবসটি উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ও টিআইবি
‘কোভিড মোকাবিলায় দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা: দুর্নীতি থামাও, জীবন বাঁচাও’ এই প্রতিপাদ্যে এ বছর দিবসটি পালন করছে টিআইবি। কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে স্থানীয় পর্যায়ে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) এবং ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপ এর সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনলাইনে দুর্নীতিবিরোধী প্রেরণাদায়ক গল্প বলা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতা এবং অনলাইন প্রদর্শনীর
আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন (জেইউডিও) এর সাথে যৌথভাবে ‘টিআইবি-জেইউডিও এমিনেন্স ২০২০’ শিরোনামে ‘কোভিড মোকাবিলায় দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা: দুর্নীতি থামাও, জীবন বাঁচাও’ এই প্রতিপাদ্যে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানের ৩২টি বিতর্ক দল এবং অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, ভারত ও বাংলাদেশের ১৮ জন বিচারক অংশগ্রহণ করেছেন।
কোভিড নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ
কোভিড-১৯ সংকট দুর্নীতির সর্বগ্রাসীরূপকে আরও প্রকট করে তুলেছে সবার সামনে। নকল মাস্ক থেকে শুরু করে নিন্মমানের পিপিই কিংবা করোনো সংক্রমণের টেস্ট রিপোর্ট বা করোনা চিকিৎসার অতিরিক্ত ব্যয়, ত্রাণ সহায়তা বিতরণে জালিয়াতি ও আত্মসাত, ক্রয় ও বিতরণে যোগসাজশের দুর্নীতি, কোনো অনিয়মই বাদ যায়নি। বলা যায় এই সংকটকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির
নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তা ব্যবহার করে সুযোগসন্ধানী, দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতির সুবিধাভোগীরা দুর্নীতির মহোৎসবে নেমেছে। এই ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার কোনো দৃষ্টান্ত যেমন ছিলো না, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ, তদারকিও ছিলো না বললেই চলে। দুর্নীতি আর সুশাসনের অভাব কীভাবে নাগরিকের ভোগান্তি থেকে শুরু করে মৃত্যুর কারণ হতে পারে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে এই অতিমারি। করোনা সংকট নিয়ে টিআইবির দুই দফা গবেষণায়ও উঠে এসেছে সেই চিত্র।


১৫ জুন ২০২০ প্রকাশিত ‘করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে টিআইবির প্রথম দফার গবেষণায়১ ভাইরাসটি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে সুশাসনের প্রতিটি নির্দেশকের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে। গবেষণার ফল অনুযায়ী, দীর্ঘসময় ধরে পরিকল্পনাহীনতা, সুশাসনের ঘাটতি ও অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দের কারণে দুর্নীতিগ্রস্তস্বাস্থ্যখাতের করুণ চিত্র ফুঠে উঠেছে। চীনে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর তিনমাস সময় হাতে পেলেও সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ না করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট ও পরবর্তী সময়ে মানহীন সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহে বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন করার মাধ্যমে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আস্থার সংকটকে প্রকট
করে তুলেছে। পাশাপাশি জরুরি আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ক্রয়ে সিন্ডিকেটেড কেনাকাটায় বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়তি দর দেখানোর চিত্রও উঠে এসেছে। একইসাথে লকডাউনের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় ত্রাণ এবং নগদ সহায়তা বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা এবং স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত উপকারভোগীদের ত্রাণ না পাবার উদহারণ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, করোনা মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে আড়াল করা হয়েছে এবং দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় না নিয়ে এসে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশকারীকে হয়রানি ও নিয়ন্ত্রণ করার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, তা প্রকারান্তরে দুর্নীতিকে উৎসাহ প্রদান করেছে।
প্রথম দফা গবেষণার সূত্র ধরে ১০ নভেম্বর ২০২০ প্রকাশিত দ্বিতীয় দফার গবেষণায়ও২ অবস্থার বিশেষ কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। সংকট মোকাবিলায় সরকারের কিছু কার্যক্রমে উন্নতি হলেও ভুয়ো নমুনা পরীক্ষা, যাচাই না করে লাইসেন্সবিহীন এবং মানহীন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা পরীক্ষা করার চুক্তি সম্পাদনের মতো অভূতপূর্ব দুর্নীতি উন্মোচিত হয়েছে। যা স্বাস্থ্য সেবায় জনগণের অভিগম্যতা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা চূড়ান্তভাবে উপেক্ষিত হবার করুণ চিত্রকেই তুলে এনেছে। একইভাবে সরকারের ত্রাণসহ প্রণোদনা কর্মসূচি থেকেও অনিয়ম-দুর্নীতি ও সুবিধা লাভের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
জরিপে দেখা গেছে যে, নগদ সহায়তা উপকারভোগীদের ১২ শতাংশ তালিকাভুক্ত হতে এবং সহায়তা পেতে ৫৬ শতাংশ উপকারভোগী অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছিল। এছাড়া, করোনাকালীন যে-সব জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, তাদের ৯০ জনই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিল। করোনাকালীন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতিরোধে শতাধিক জনপ্রতিনিধিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িক বরখাস্তকরলেও তাদের অনেকেই (অন্তত ৩০ জন) উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে স্বপদে ফিরে এসেছে। করোনার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে সরকার ২১টি
প্যাকেজে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করলেও তা বিতরণে স্পষ্ট বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমেও অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে আড়াল করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
সরকার দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণে যতটা তৎপর তার চেয়ে বেশি তৎপর ছিলো তথ্যের প্রকাশ নিয়ন্ত্রণে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিপরীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ব্যবহার করোনাকালে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা
আর্টিকেল-১৯ এর তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় ২০২০ সালের প্রথম নয় মাসে ২৯১ জনের বিরুদ্ধে
মোট ১৪৫টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা করা হয়েছে এবং ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সরকারের সংকোচনমূলক নীতি প্রয়োগের (সেবা ও নমুনা পরীক্ষা হ্রাস) মাধ্যমে শনাক্তের সংখ্যা হ্রাস হওয়াকে ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে দাবি এবং রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ভাইরাস মোকাবিলার বদলে এ সংক্রান্তকার্যক্রম নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখাটাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। এমনকি এখন পর্যন্ত শীত মৌসুমে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ বিষয়ে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিলেও বাস্তবে বিক্ষিপ্ত কিছুঘোষণা ছাড়া সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা কৌশল দেখা যাচ্ছে না। অথচ প্রথম পর্যায়ের মত ইতোমধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ ও সংক্রমণে মৃত্যুর হার বাড়তে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২০: টিআইবির দাবি
টিআইবি মনে করে, অতিমারির এই মহাসংকটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অর্থজীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে
দেওয়া। তাই আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২০ উপলক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ করে চলমান কোভিড অতিমারি
মোকাবিলায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে টিআইবি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য নি¤œলিখিত সুপারিশসমূহ
প্রস্তাব করছেÑ
১. করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এখনই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য পরামর্শক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা
ও নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করে কার্যকর, সমন্বিত, অংশগ্রহণমূলক, সময়াবদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে
সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে;
২. বিনামূল্যে নমুনা পরীক্ষার সুবিধা সকল জেলায় সম্প্রসারণ করতে হবে, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে। নমুনা পরীক্ষা থেকে শুরু করে ফলাফল প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে;
৩. স্বাস্থ্য খাতের সব ধরনের ক্রয়ে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে। জরুরিসহ সকল ক্রয় ই-জিপিতে করতে হবে;
৪. করোনা সংকটকালে স্বাস্থ্য খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সাময়িক ‘লোকদেখানো’ উদ্যোগের বিপরীতে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বাস্তব সুফল নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না” এই অঙ্গীকারের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে;
৫. দুর্নীতির মূল হোতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে তাদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে, যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে না থাকে;
৬.বৈশ্বিক এই বিপর্যয় মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে;
৭. সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ওপর অব্যাহত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ বন্ধ করতে হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত ও আত্মঘাতিমূলক। অবিলম্বে মুক্ত সাংবাদিকতার পথ উন্মুক্ত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সকল নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ এর নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল করতে হবে;
৮. অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অভীষ্ট অর্জনে সকল অভীষ্টের কার্যকর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে অভীষ্ট-১৬ এর ওপর সর্বাধিক প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে;
৯. দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংগঠনসমূহ যাতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;
১০. ঋণ খেলাপিতে জর্জরিত ও খাদের কিনারায় থাকা ব্যাংকিং খাতে বিশেষ করে করোনা সংকটকালেÑ দুর্নীতি, জালিয়াতি ও নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়নের জন্য নিরপেক্ষ, যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করতে হবে।



























