
সাংবাদিকদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের পর দুঃখপ্রকাশ করলেন চিকিৎসক


সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক স্ট্যাটাস দেওয়ার পর নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া। নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ওই পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের উদ্দেশে ফেসবুকে দেওয়া নতুন এক স্ট্যাটাসে আগের মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন ডা. কেয়া। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন।’ এমন বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।


পরের দিন নতুন পোস্টে আগের লেখার ব্যাখ্যা দেন এই চিকিৎসক।
ডা. কেয়ার দাবি, তার বক্তব্যটি সব সাংবাদিককে ঢালাওভাবে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি; মূলত শব্দচয়নগত অসতর্কতার কারণেই বিষয়টি এমন রূপ নিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সকল সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আমার পূর্বের পোস্টে ভুলবশত সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যে লেখাটা লিখেছি, সেটার জন্য দুঃখিত। শব্দচয়নে ভুলবশত এমন হয়েছে।’
ডা. কেয়া আরও উল্লেখ করেন, পোস্টটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছিল, যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। সবাইকে একই পাল্লায় মাপার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার খামার পুষ্করণী গ্রামের এক প্রসূতির সন্তান প্রসবকে কেন্দ্র করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রসূতিকে স্বাভাবিক প্রসব করানোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালান ডা. কেয়া। একপর্যায়ে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। স্বজনদের দাবি, নবজাতকের মাথায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রসূতিকে দ্রুত কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার খবর স্থানীয় গণমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরই ডা. কেয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রূপাত্মক পোস্টটি দেন।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ডা. কেয়া। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি যথাসম্ভব স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টাই করেছিলেন। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় দ্রুত তাকে কুমিল্লা শহরের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের চিহ্নের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ নিয়ে রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



























