
ফরিদগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ১৪৭ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার


সারাদেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ১৪৭ পিস ইয়াবাসহ কামরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বোয়াডার বাজারসংলগ্ন লক্ষ্মীপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহর নির্দেশনায় এবং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল-আমিন তালুকদারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। এ সময় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জুমায়েত জুয়েলসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে কামরুল ইসলামকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে ১৪৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃত কামরুল ইসলাম উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের (বশির দিঘীরপাড়) বাবির মো. হানিফ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা ও বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি দরে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন। বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবসমাজকে লক্ষ্য করে তিনি মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, এর আগেও প্রাণঘাতী ইয়াবাসহ একাধিকবার তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যান। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় একই অবৈধ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলাও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ১৪৭ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সোমবার তাকে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ মাদক কারবার বা সেবনের বিষয়ে তথ্য জানলে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



























