
নাকে খত দেয়ায় অপমানিত বোধে সিদ্দিকুরকে খুন করে সরোয়ার

শাহরাস্তি উপজেলায় যুবককে খুন করে ড্রামে লাশ লুকিয়ে রাখার ঘটনায় খুনিকে আটক করেছে পিবিআই, চাঁদপুর। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচনের বর্ণনা দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর পিবিআই কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাস।




আসামী নূরে আলম পুলিশকে আরও জানিয়েছে যে, গত ০৯/১১/২০২০খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ৮টায় তার বড়ভাই সারওয়ার আলম তাকে মোবাইল ফোনে পদুয়ার বাজার পেট্রোল পাম্পে যেতে বলে এবং সেখানে বড় ভাইয়ের একজন বন্ধু একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আসবে, মোটরসাইকেলটি মামার বাড়িতে রেখে আসার জন্য বলে। বড়ভাই সারওয়ারের কথা মত সে মোটরসাইকেলটি বড় ভাইয়ের বন্ধুসহ মামার বাড়িতে রেখে আসে। নূরে আলমের দেখানো মতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে দেখা যায় যে, উক্ত মোটর সাইকেলটিই মৃত সিদ্দিকুর রহমানের। পরবর্তীতে সারওয়ার আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায় যে, মৃত সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির পেছনের দিকে আসামী সারওয়ার আলমদের বাড়ি। মৃত সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির উপর দিয়ে কোনোরকমে আসামী সারওয়ার আলমদের আসা-যাওয়া করতে হয়। আসামী সারওয়ার আলম সিদ্দিকুর রহমানের নিকট আসা-যাওয়ার পথের জন্য ১০ ফুট রাস্তা দাবি করে। এজন্যে কয়েকবার সালিস বৈঠকও হয়। কিন্তু মৃত সিদ্দিকুর রহমান রাস্তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অনুমান ৪ বছর আগে স্থানীয় এক সালিস বৈঠকে আসামী নূরে আলম, সারওয়ার আলম এবং তার আপন চাচাকে মৃত সিদ্দিকুর রহমানের প্ররোচনায় সালিসগণ নাকে খৎ দেয়ায়। এতে তারা চরম অপমান বোধ করে। সেই থেকে আসামী সারওয়ার আলম মৃত সিদ্দিকুর রহমানের উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে পরিকল্পনা করতে থাকে। পরিকল্পনা মতে সে ওই সিম সংগ্রহ করে এবং বাসা ভাড়া নেয় এবং গত ০৯/১১/২০২০খ্রিঃ তারিখ পূর্বপরিকল্পিতভাবে উক্ত সিম হতে সন্ধ্যার সময় মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বাসায় ইলেকট্রিকের কাজ করাবে বলে সিদ্দিকুর রহমানকে ফোন করে আমানিয়া হোটেলের সামনে যেতে বলে, সেখান হতে তার লোক গিয়ে বাসায় নিয়ে আসবে।
সিদ্দিকুর রহমানকে আসামী সারওয়ার আলমের সহযোগী পরিকল্পনা মতো তার বাসায় নিয়ে আসে। বাসায় আসার সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে তার হাত পা বেঁধে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয় এবং রাতের এক পর্যায় ছোরা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন ১০/১১/২০২০খ্রিঃ তারিখ সিদ্দিকুর রহমানের লাশ ড্রামের ভেতরে ঢুকিয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে করে উল্লেখিত স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়।
আসামী সারওয়ার আলমের দেখানো মতে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে বাসার তালা খুলে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ২টি ছোরা, ২টি ক্ষুর, ২টি ক্রিকেট স্ট্যাম্প, আসামী সারওয়ার আলমের রক্তমাখা ১টি জিন্সের প্যান্ট, ১টি গেঞ্জিসহ কাপড়-চোপড়, মৃত সিদ্দিকুর রহমানের জুতা (সু) এবং রক্তমাখা কাপড়-চোপড় ও মোটরসাইকেলের চাবিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।


























