
রসু খাঁর সাথে ফাঁসির সেলেও ছিলেন তিনি
মামলার আসামীদের সমবেদনা জানালেন সাবেক মেয়র


সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক পৌর মেয়র আবদুল মান্নান খান বাচ্চু। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-
নিরীহ বিএনপি যুবদল ছাত্রদল ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা আর কতো মামলায় পড়বে?
গত ২৯ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে টোরাগড় কেজি স্কুলের সামনে মিটিং ও মিছিল হয়। সেখানে মিছিল করতে গিয়ে প্রশাসনের সাথে অনাকাঙ্খিতভাবে একটি ঘটনা ঘটে যায়। সেই ঘটনায় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইন্জিনিয়ার মমিনুল হক সাহেবসহ বিএনপির যুবদল, ছাত্রদল ও তার অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং এর মধ্যে অনেকেই এখন গ্রেফতার হয়ে জেলে আছে । এর আগেও গত ১০ বছরে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের একেকজন নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ১০/১২ টা করে মামলা হয়েছে। তারা একেকজন কতবার জেল খেটেছে তার কোন শেষ নেই। মাসে ৪/৫ বার চাঁদপুর কোটে হাজিরা দিতে হয়েছে তাদের। এই হাজিরা দিতে গিয়ে সবাই অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গিয়েছে এবং মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে।


২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার মত বয়ঃবৃদ্ধ লোকও ৭৫ বছর বয়সে জেল খেটেছি। ২০টি খুনের মামলার আসামি রসু খা’র সাথে ফাঁসির সেলে এক সাথে থেকেছি এবং একসাথে ভাতও খেয়েছি। জেলে থাকাকালীন ১ সপ্তাহের মধ্যে একদিনও ভাত খেতে পারিনি। শুধু পাউরুটি আর কলা খেয়ে ছিলাম। জেলের ময়লা ও ধূলো-বালি যুক্ত কম্বলের মধ্যে থেকে ১ সপ্তাহের মধ্যে ১ ঘন্টাও ঘুমাতে পারিনি।
জেলের ফাঁসির কনডেম সেলের রুম ১০”১০ ফুট। রুমের মধ্যে প্রসাব-পায়খানা ছিল। সেখানে আমি আর বলাখালের খায়ের ভাই ছিলাম। দুর্গন্ধে আমরা থাকতে পারতাম না।
জেলে থাকা যে কত কষ্টের তা আমি হাড়ে হাড়ে অনুভব করেছি। একজন বড় নেতারাও দেখতে যায়নি। আমি তো একবার খেটেছি কিন্তু যেসব নেতা কর্মী বার বার জেল খেটেছে তাদের যে কত কষ্ট, নিজে ভুক্তভোগি হয়ে বুঝেছি।
ইনশাল্লাহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের এই ত্যাগ-তিথিক্ষা কোনোদিন বৃথা যাবে না। অচিরেই আমাদের শুভ দিন আসছে। সেদিন বেশি দূরে নয়। কারন, মরহুম রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের দোয়া ও আর্শিবাদ এই নেতা কর্মীদের উপর আছে।
এই মামলায় যারা পড়েছেন,তাদের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক সমবেদনা। দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই বিপথ থেকে তাদের রক্ষা করেন।
আমিন।।
আবদুল মান্নান খান বাচ্চু
সাবেক মেয়র, হাজীগঞ্জ পৌরসভা,
প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও সাবেক সভাপতি হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি


























