
‘ভালো সময় খুব বেশি দূরে নয়’

‘একটা বিষয় হঠাৎ করে মাথায় এলো তাই ভাবলাম বার্তাটা আপনাদের দিই।’ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শুরুটা এভাবে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তার ফেইসবুক পেইজে ভিডিও বার্তায় গতকাল করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে তিনটি বিষয় সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করলেন।
প্রথমত, অকারণে বাইরে বেরিয়ে নিজের ও অন্যদের জীবন বিপন্ন না করার আহ্বান সেখানে। দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসের মতো মারাত্মক রোগের চিকিৎসায় এই দেশে যারা নিয়োজিত সেই ডাক্তার, নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই সেবায় যারা আছেন তাদেরও ধন্যবাদ মাহমুদউল্লাহর। তৃতীয়ত, সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন ‘দিন আনি, দিন খাই’ মানুষগুলোর কথা। তার আবেদন, সবাই যেন বেকার হয়ে যাওয়া সেইসব নি¤œ আয়ের শ্রমজীবীর পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ান। এই তিন মিলে ফলাফলটাও হিসেব করে রেখেছেন মাঠের লড়াকু এই অল রাউন্ডার। ‘ইনশা আল্লাহ আমরা এই কঠিন সময় পার করব। ভালো সময় আমাদের থেকে খুব বেশি দূরে নয়। এটা আমি বিশ্বাস করি।’
মাহমুদউল্লাহ কখনোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেমন সরব নন। কিন্তু করোনাভাইরাসের এই সময়টাতে নিজেকে আর গুটিয়ে রাখেননি। ‘গতকাল রাতে হঠাৎ মাথায় একটা খেয়াল এলো যে অনেকে হয়তো এভাবে চিন্তাও করতে পারি- এই কয়েক দিন আমরা বাসায় বসে আছি, বাসার নিত্যদিনের কাজগুলো করছি। গাছে পানি দিচ্ছি। বই পড়ছি। একটু ব্যায়াম করছি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছি।’ কিন্তু মানুষ তো বন্দি হয়ে থাকতে শেখেনি। তাই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি যা তা সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে মনে করিয়ে দিয়ে মাহমুদউল্লাহ ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘যেহেতু আমরা টানা কয়েকদিন বাসায় আছি তাই আমাদের মধ্যে হয়তো একটু অবসাদ চলে আসতে পারে। বোরিং লাগতে পারে। মাথায় আসতে পারে হয়তো যে একটু বাসার নিচে যাই। একটু কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলি। বা বাসার সামনের মোড় থেকে একটু হেঁটে আসি।’ এসব করা যাবে না। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘যদি কারও মাথায় বা মনে এরকম চিন্তাধারা উঁকি দিয়ে থাকে তাহলে ওগুলো যেন ঝেড়ে ফেলি। কারণ, এই মুহূর্তে বাসায় থাকাটাই নিরাপদ। এবং সময়ের দাবি। তাই আমরা যেন এই নিয়মটা মেনে চলি। কারণ এটা যতটুকু আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য ঠিক ততটুকু অন্যদের এবং অন্যদের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। তাই নিজে নিরাপদে থাকি, অন্যদেরও নিরাপদে রাখার চেষ্টা করি।’


এর সঙ্গে ঘনঘন সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। হাঁচি-কাশির ক্ষেত্রে কনুই বা টিস্যু ব্যবহারের কথাও বললেন, ‘এই সমস্ত নিয়মাবলি যেন আমরা মেনে চলি। এর চেয়ে বড় কথা এই মুহূর্তে সময়ের দাবি যেটা সেটা মেনে আমরা বাসাতেই থাকি। এটা সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে।’
এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় যোদ্ধার ভূমিকা নিতে হচ্ছে চিকিৎসাসেবায় যারা আছেন তাদের। বিরাট ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কথা মনে করে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘আমাদের ডাক্তার-নার্সরা এবং যারা চিকিৎসা সেবায় এই মুহূর্তে যারা নিয়োজিত আছেন তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই দুঃসময়ে, এই কভিড নাইন্টিনের মতো দুরারোগ্য রোগের সময় আপনারা যেভাবে এগিয়ে আসছেন এবং দেশের সেবা করছেন সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে আমার মন থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, এই মহৎ কাজের জন্য আপনারা অবশ্যই পুরস্কৃত হবেন।’
শ্রমজীবীরা করোনাভাইরাসের কারণে গোটা দেশের প্রায় লকডাউন পরিস্থিতিতে আছেন সবচেয়ে বিপদে। কিন্তু সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়াক এটাই মাহমুদউল্লাহর চাওয়া। ‘একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে যেটা এখন আমাদের বেশি পোড়াচ্ছে। আমরা যারা শ্রমজীবী মানুষ আছি, যারা এই মুহূর্তে বেকার হয়ে পড়ছে তাদের পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়ছে।’ তার আহ্বান, ‘আমরা চেষ্টা করব যে যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার এবং তাদের সাহায্য করার।’




























