
হাজীগঞ্জে ক্রয়কৃতি সম্পত্তি দখলে নিতে গিয়ে হামলার শিকার, আহত ৫


হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ সর্দার বাড়ীতে সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে অর্তকিত হামলায় ৫ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আহত মো. মিন্টু সর্দার। এদিকে হামলার খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। শনিবার দুপুরে এই হামলা আহতরা হলেন মৃত জামাল সর্দারের ছেলে মো. মিন্টু সর্দার ও সাখাওয়াত হোসেন (৩৫), মৃত জামাল সর্দারের স্ত্রী রানু বেগম (৭০), মো. মিন্টুর স্ত্রী রীনা বেগম (২৬) ও মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রিয়াদ (১৭)।
এ বিসয়ে মিন্টু সর্দার পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, ২১৩নং মকিমাবাদ মৌজার সিএস/এস.এ ৮২৯নং দাগে ১ আনা পুকুর ২০ শতাংশের অন্দরে বিএস ১৪০৪ দাগে পুকুরের মালিক (দাতা) হাজী আবদুর রশিদ সর্দারের কাছ থেকে ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ একই বাড়ির মো. মিন্টু হোসেন ২শতাংশ ভূমি (পুকুর) ক্রয় করেন। দলিল নং- ২২৪১। যার খারিজ খতিয়ান (নং- ৫৬৬৮) করা আছে। ক্রয় ও দখল সূত্রে ওই ভূমির মালিক হয়ে তিনি ঘটনার দিন দুপুরে পুকুরের একটি অংশ ভরাটের লক্ষে শ্রমিকদের দিয়ে প্যালাসেটিংয়ের কাজ শুরু করেন। ওই সময় অভিযোগের বিবাদী ও একই বাড়ির আ. হান্নান মোল্লা, তার স্ত্রী ও ছেলেদের নিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার উপর অর্তকিত হামলা করেন আ. হান্নান ও তার ছেলেরা। পরে তাকে (মিন্টু) মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে আসলে মিন্টুর মা, ভাই ও স্ত্রীর উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে মারধর ও মহিলাদের শ্লীতাহানী করেন। এসময় তার ২৭ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন মিন্টু। এরপর স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করায়।


থানা অভিযোগ পত্রে বিবাদীরা হলেন, একই বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে আ. হান্নান মোল্লা (৫৬), আ. হান্নান মোল্লার ছেলে পেয়ার আহাম্মদ (৩০), মো. শান্ত (২৫), মো. রাব্বি (২৭), মো, সাগর (২৩) কালু ও আ. হান্নান মোল্লার স্ত্রী ছালেহা বেগম (৪৭)।
জানতে চাইলে, আবদুল হান্নান মোল্লা পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, মিন্টু যার কাছ থেকে জায়গা (ভূমি) ক্রয় করেছে, তার (হাজী আব্দুর রশিদ) নামে আমার শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমের সম্পত্তি ভুলবশত বি.এস হয়ে গেছে। সেই সম্পত্তি মিন্টু ক্রয় করেছে। আমরা মিন্টুকে বলেছি, বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেখানে যেন কোন কাজ না করে। কিন্তু মিন্টু আমাদের না জানিয়ে সেখানে কাজ শুরু করে, তাই আমরা বাধা দিয়েছি। মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে মারামারি হয়নি। তবে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে আমাদের মাঝে ধাক্কা-ধাক্কি হয়। তখন কে, বা কারা ইট-পাটকেল ও লাঠি-সোটা ছুড়ে মারে। এতে করে তারা ও আমরা আহত হই।
এদিকে মিন্টুর মা, ভাই ও স্ত্রীর উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে মারধর ও মহিলাদের শ্লীতাহানী করেন। ওইসময় তার ২৭ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলে দাবী মিন্টুর। সম্পত্তি ক্রয় করেও দখলে যেতে না পারায় মিন্টু প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন। অপরদিকে আট বছর ধরে সম্পত্তির বিএস খতিয়ানে আবদুর রশিদ সর্দারে নামে উঠলেও সংশোধিত মামলা করেনি হান্নান মোল্লা।


























