
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সংবাদ সম্মেলনে বললেন ইউপি চেয়ারম্যান


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ কবির হোসেন মিয়াজীর সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের মিলনায়তনে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় একই সংবাদ পরিবেশন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনের হলফনামায় আমার সম্পদের যে তথ্য দিয়েছি, সেই তথ্যগুলো দিয়েই গত ৫ বছরে দুর্নীতি করে ওইসব সম্পদ অর্জন করেছি বলে একটি কুচক্রি মহল অপপ্রচার করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হাজীগঞ্জ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি চক্র মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করার ষড়যন্ত্র মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনের প্রথমে যে ভাতার কার্ডের অনিয়মের এবং অর্থ নেয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে প্রকৃতপক্ষে এই ইউনিয়নের কোন ভাতার কার্ড এর দায়িত্বে আমি আলহাজ্ব কবির হোসেন মিয়াজী ছিলাম না। আমি ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের কে দিয়ে সমবন্টন করে দিয়েছি। এতে আমার কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। সুতরাং কোন ভাতার কার্ড এর অর্থ নেয়া আমার কোন প্রশ্নই আসে না। এমনকি ভাতার কার্ড নিয়ে কোনো ভুক্তভোগীর সাথে আমার কথোপকথন হয়নি অর্থাৎ টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।


তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, কাউসার হোসেন নামে যাকে আমার বিভিন্ন দায়িত্বে এবং আমার পক্ষে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত কাউছার আমার ইউনিয়ন পরিষদের কোনো দায়-দায়িত্বে ছিল না। তাকে কোনো কর্মকান্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। প্রতিবন্ধী নূরে আলমের মৃতদেহ যেদিন পেয়েছে, সেদিন আমি ঢাকায় সংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। কাউছারের জন্য কারো কাছে যাইনি। প্রতিবন্ধি নুরে আলম হত্যার ঘটনায় আমি কোনভাবেই বিবাদীদের পক্ষে কারো কাছে সুপারিশও করিনি। এমন কোন প্রমাণ নেই।
ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব পাওয়ার পর কোন প্রকার উন্নয়নকাজে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন ঠিকাদার আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে- এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। মূলত কোন ঠিকাদারের সাথে আমার কোন চাঁদা দাবীর প্রশ্নই আসে না। থানায় এ বিষয়ে কোনো প্রকার চাঁদাবাজির অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আছে কিনা তা জানা নেই। সে অভিযোগকারী কে তাও আমার জানা নাই।
এন্নাতলী গ্রামের বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে কোনো গ্রাহকের সাথে অদ্যবধি কথা হয়নি। বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজে কারো কাছ থেকে আমি নেইনি।
২০০৪ সালে আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দলের দায়িত্ব পালন করে আসছি।
১৯৯৪ সালে ব্যবসা শুরু করি। ২০০১ সালে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত দুইটি ঘর বরাদ্দ পাই। ২০০৭ সালে যাত্রাবাড়ী বড় বাজারে ভাড়া হিসেবে ছয়টি দোকান বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করে জনসেবায় নিয়োজিত আছি।
ঢাকার কাজলায় কোন সম্পত্তি নেই। প্রমাণ দিতে পারলে সেই সম্পত্তির অর্ধেক তাকে দেওয়া হবে। করলার টয়োটা গাড়ি সম্পর্কে যে তথ্য এসেছে, ওই গাড়িটি মূলত আমার নয়, সেটি আমার বড় মেয়ের জামাতার। অনেক পূর্বে ক্রয় করা, সরকারি সকল কাগজপত্রে তা প্রমাণ রয়েছে। সেই জামাত একজন ব্যবসায়ী।
যাত্রাবাড়ীতে আমার কোন প্লাট নেই। তার প্রমাণ দিলে তাকে ফেরত দেওয়া হবে। মূলত সেখানে আমার একটি ছয়তলা বাড়ি রয়েছে। যাহা ২০১৬ সালের নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। আমার সহধর্মিনীসহ ২০১৬ সালে আমরা হজ্বে যাই। ২০১৫ সালে হজের টাকা জমা দিয়েছি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা। একটি বড় দলের প্রতীক নৌকা। এই নৌকা যাকে দেয়া হবে, আমি তার সাথেই কাজ করবো। যেই চক্রটি দলের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি করতে উঠেপড়ে লেগেছে, তারা আচমকা আওয়ামীলীগ করে জনগণের সেবা করতে চায়। ৫/৬ বছর দলের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত হয়েই নৌকার মনোনয়ন পেতে চান অনেকেই। নৌকা পেতে হলে ত্যাগী, দলের একনিষ্ট ও পরিশ্রমী একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হতে হবে।
পরিশেষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের কাছে আহবান করেন সত্য ঘটনা বা অনিয়ম তুলে ধরুন। সেটা যদি আমিও হই। তবে মিথ্যা বা উড়ন্ত কোন তথ্য দিয়ে জনগণের মাঝে বিভ্রান্ত করা যাবে। জনগণের কাছে সংবাদ মাধ্যমের আস্থা থাকে না।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিনউদ্দিন আল আজাদ। ওইসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু তাহের, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসনেয়ারাসহ ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউপি সদস্যবৃন্দ।


























