
হাজীগঞ্জে শৈলখালী খাল পুনঃখনন না হওয়ায় ২০ হাজার কৃষকের ভোগান্তি


হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির উপজেলার বিভিন্ন ইরিবোরো স্ক্রীমের প্রধান খাল শৈলখালী। এটি ডাকাতিয়া নদী থেকে আলীগঞ্জ চারিয়ানী বাড়ির হতে গঙ্গানগর ব্রিকফিল্ডের পাশ দিয়ে কচুয়ায় প্রবেশ করে। এই খালটি খনন না হওয়ায় ক্রমেই উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কৃষকরা বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯টি মৌজা ও শাহরাস্তি উপজেলার ৭ টি মৌজার কৃষকেরা এই খালের ওপর নির্ভর করেই ইরিবোরো স্ক্রীম করে থাকে।


এখানে প্রায় ২০ হাজার একর জমি রয়েছে। খালটি খনন না হয় দুই উপজেলার প্রায় ২০ হাজার কৃষক প্রতি বছর ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি ইরি-বোরো স্ক্রিমের পরিচালকরা হারাচ্ছে তাদের সেচ প্রকল্পের আগ্রহ। বর্তমানে ১০ হাজার একর জমিতে ইরিবোরো চাষাবাদ হয়ে থাকে। খালটি খনন করা হলে বাকী ১০ হাজার একর জমিতে ইরিবোরো চাষাবাদ করা সম্ভব হবে বলে কৃষকদের প্রত্যাশা।

ভোগান্তির কথা তুলে ধরে স্থানীয় কৃষকেরা জানান, খালটি খনন করা খুবই প্রয়োজন। তা না হলে ইরিবোরো ধান চাষাবাদ করা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই অঞ্চলে বৃষ্টি হলে পানি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। তখন ফসল নষ্ট হয়। আবার পানি সংকটে ফসল করা যায় না। গত কয়েক বছরে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে ইরিবোরো ধান চাষ করছে না।
খাল খনন না হওয়া প্রসঙ্গে হাটিলা সেচ প্রকল্পের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলছেন, প্রতি বছর সার্ভেয়ার এসে খাল পরিদর্শন করে। কিন্তু খনন হয় না। বারবার টেন্ডার হয়, তারপরও খনন হয় না। গত কয়েক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ বিভিন্ন দপ্তরে খালটি খনন করার জন্য আবেদন করেছি।
কৃষকের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক রাসেল মজুমদার বলেন, কৃষকদের ভোগান্তি লাঘবে শৈলখালী খালটি খনন করা অতীবও জরুরী। কৃষকরা ধীরে ধীরে ইরিবোরো ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেকেই পানি সংকটে অন্য ফসল করছে কৃষকরা।

আগামী বছর খালটি খনন হবে বলে নিশ্চিত করেন হাজীগঞ্জ উপজেলার বিএডিসির কর্মকর্তা মামুন হোসেন। তিনি বলেন, একাধিকবার সার্ভেয়ার করা হলেও চলতি বছর খালটি খনন করার সকল প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু সার্ভেয়ারের ত্রুটি থাকায় এ বছর হচ্ছে না। আগামী বছর প্রথমে দুই কিলোমিটার খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা বলেছেন কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। আর এই শ্লোগানকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হলে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উত্তর অঞ্চলের কৃষকের ভোগান্তি দুর করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


























