
“দরজা সবার জন্য খোলা” ফাইলের ফাঁকে অসহায় খায়রন্নেছাদের কথাও শুনেন হাজীগঞ্জ ইউএনও ইবনে আল জায়েদ


‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন। ধাক্কা দিন, দরজা খুলে যাবে’—চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান দরজায় এমন ব্যতিক্রমী সাইনবোর্ড ইতোমধ্যে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। সরকারি কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সংকোচ ও দ্বিধা দূর করতে স্থাপন করা এই সাইনবোর্ড এখন যেন ইউএনও ইবনে আল জায়েদ হোসেনের মানবিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
শুধু সাইনবোর্ডেই নয়, বাস্তবেও তার অফিসের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা। প্রতিদিন নানা সমস্যা ও প্রয়োজন নিয়ে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ভিড় জমে তার কার্যালয়ে। সেই ভিড়ে যেমন থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তেমনি থাকেন অসহায়, দরিদ্র ও বয়স্ক ভিক্ষুকরাও। কাউকে বিরক্তি বা অবহেলা না করে তাদের কথা শোনেন ইউএনও। সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দেন।
রোববার ছিল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। সকালেই অফিসে ঢুকে দেখা যায়, ৭০ বছরের বেশি বয়সী খায়রুন্নেছা নামের এক বৃদ্ধা ইউএনওর সঙ্গে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন। আর ইবনে আল জায়েদ হোসেন মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন ওই অসহায় বৃদ্ধার দুঃখ-কষ্টের কথা।


শুধু তার কথা শোনাই নয়, বৃদ্ধার ওষুধ কেনা, পরিবারের খোঁজখবরসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়েও খোঁজ নিচ্ছিলেন তিনি। পাশে তখনও পড়ে ছিল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইল। একদিকে দাপ্তরিক দায়িত্ব, অন্যদিকে অসহায় মানুষের কথা—দুই দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে সামলাতে দেখা যায় তাকে।
এমন দৃশ্য হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নতুন নয়। কিছুদিন আগে কয়েকজন শিশু হঠাৎ তার কার্যালয়ে এসে ফুটবল দেওয়ার আবদার করে। শিশুদের সরল দাবি শুনে তাদের ফিরিয়ে দেননি ইউএনও।তাৎক্ষণিকভাবেই তাদের হাতে তুলে দেন ফুটবল। এতে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণত সরকারি কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই এক ধরনের ভয়, সংকোচ কিংবা দ্বিধা কাজ করে। কিন্তু হাজীগঞ্জ ইউএনওর কার্যালয়ে সেই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। প্রয়োজনের কথা বলতে দরজায় কড়া নাড়লেই সাড়া মিলছে। অসহায় মানুষও নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়ছেন তার কক্ষে।
দক্ষতা, ধৈর্যশীলতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইউএনও ইবনে আল জায়েদ হোসেন।
তার দায়িত্বকালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা রয়েছে। সম্প্রতি হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনেও তার দক্ষতা, ধৈর্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় মিলেছে।
তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বাইরেও মানুষের প্রতি তার এমন আন্তরিক আচরণই এখন স্থানীয়দের কাছে আলাদা করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন মানুষের সমস্যাকে নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন এবং অসহায় মানুষকে আপনজনের মতো সময় দেন, তখন প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ে।
অফিসের ফাইলের স্তূপের মাঝেও অসহায় মানুষের কথা শোনা, শিশুদের আবদার পূরণ করা কিংবা বয়স্ক মানুষের দুঃখ-কষ্টের খোঁজ নেওয়া—এভাবেই যেন তৈরি হচ্ছেন একজন ‘মানবিক ইউএনও’ ইবনে আল জায়েদ হোসেন।
ইউএনও ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “মানুষ যেন ইউএনও অফিসে এসে সহজভাবে তার সেবা পেতে পারে, সেজন্যই আমার এই উদ্যোগ।”
তার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সেবাপ্রত্যাশী মানুষকে সহজে কাছে পাওয়া এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি ও সংকোচ কমানো।




























