
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চাঁদপুরে হোটেল-রেস্তোরাঁর শেফ ও মালিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা


‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রতিপালন ও হোটেল-রেস্তোরাঁর খাদ্যের নিরাপত্তা’ শীর্ষক হোটেল-রেস্তোরাঁর প্রধান শেফ (বাবুর্চি) ও মালিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) চাঁদপুর শহরের ফয়সাল শপিং মার্কেটের ৩য় তলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি চাঁদপুর ও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুঠোফোনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
তিনি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য আগত সকল হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও প্রধান শেফদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আশা করি এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আপনারা প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগিয়ে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পরিবেশনে আরও সচেতন হবেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সকল হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও প্রধান শেফদেরও ধন্যবাদ জানাই।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা।
তিনি বলেন, এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য ক্যাবকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা যারা এখানে বসেছি, তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব—আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের জন্যই আইন সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে মানুষকে আলাদা করেছে তার বিবেক। তাই খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রত্যেককে নিজের বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ট্যানারির লবণ মানুষের খাবারের জন্য নয়। খাদ্যে অনুপযুক্ত কোনো উপাদান ব্যবহার করা যাবে না। আমরা ধর্মপ্রাণ মানুষ; নিজেদের পাশাপাশি অন্যের ভালো থাকার জন্যও প্রার্থনা করি। তাই মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আমাদের সবার।
চাঁদপুরের হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক দেশে খাবারের দোকান নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকলেও আমাদের দেশে যত্রতত্র খাবারের দোকান দেখা যায়। তাই খাবারের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও মান নিশ্চিত করতে মালিক ও শেফদের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।
তিনি বলেন, একজন কর্মী দীর্ঘ সময় কাজ করার পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। তাই খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় কর্মীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক খাবারের দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে খাবারের গুণগত মান ও নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। যারা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারবেন না, তারা গ্রেডিং তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
তিনি চাঁদপুরের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা বিবেকবান। তাই ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় তিনি হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও শেফদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বাদের পরিমাণ কমান, কোয়ালিটি বাড়ান।’ অর্থাৎ খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বা আকর্ষণের চেয়ে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার পরিবেশনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, জেলা খাদ্য নিরাপদ কর্মকর্তা ফয়েজ জালাল উদ্দিন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি নুরুল আলম লালু।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলার সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, চাঁদপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান রুপম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ এবং কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন।
কর্মশালা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজী মাসুদ আখন।
এ সময় চাঁদপুরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, প্রধান শেফ (বাবুর্চি), সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


























