বাঁচার আকুতির পরও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট
আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ | ৫:৩২
পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট
আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ | ৫:৩২
Link Copied!

গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আব্দুল হক আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, রেনুকে ছেলেধরা বলে অপবাদ দেন এক নারী অভিভাবক রিয়া। তিনি পেশায় গৃহকর্মী। এরপরই আসামিরা মিলে তাকে গণপিটুনিতে হত্যা করে।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন :ইব্রাহিম ওরফে হূদয় মোল্লা, রিয়া বেগম ময়না, আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, শাহিন, বাচ্চু মিয়া, বাপ্পি, মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, আসাদুল ইসলাম, বেল্লাল মোল্লা, রাজু ও মহিন উদ্দিন। এদের মধ্যে মহিন উদ্দিন পলাতক। জাফর হোসেন পাটোয়ারী ও ওয়াসিম আহমেদ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে।

আলিফ, মারুফ, সুমন ও আকলিমা—এই চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছেন। আসামিদের মধ্যে ওয়াসিম, হূদয় ও গৃহকর্মী রিয়া বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে রিয়া বেগম, বাচ্চু মিয়া, শাহীন, মুরাদ ও বাপ্পি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

চার্জশিটে যা বলা হয়েছে :

নিহত তাসলিমা বেগম রেনু ১১ বছরের তাসিন আল মাহির ও চার বছর বয়সের মেয়ে তাসমিন তুবার জননী। তুবাকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। ২০১৯ সালের ২০ জুলাই সকাল ৯টার দিকে তাসলিমা বেগম রেনু উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেকে ভর্তি করানোর জন্য খোঁজ-খবর নিতে যান। ঐ সময় সারা দেশে পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে—এই গুজব চলছিল। হঠাত্ স্কুলের নিচতলায় নারী অভিভাবকেরা রেনুকে ঘিরে ধরে ছেলেধরা বলে চিত্কার করতে থাকেন। পরে স্কুলের একজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী রেনুকে প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ বেগমের কক্ষে নিয়ে যান।

ঐ সময় রিয়া নামে এক নারী অভিভাবক চিত্কার করে বলেন, ‘আপা, ঐ মহিলা ছেলেধরা। ওরে আমাদের কাছে দিয়া দ্যান।’ পরে তারা রেনু বেগমকে সেখানেই মারতে উদ্যত হন। প্রধান শিক্ষিকা রিয়াকে দোতলার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এই খবর পেয়ে রিয়াসহ অনেকেই বিষয়টি মোবাইল ফোনে কয়েক জনকে খবর দেন। চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্কুলের ভেতরে শত শত মানুষ ঢুকতে থাকে। ঐ সময় অর্ধশত মানুষ দোতলার ঐ কক্ষের দরজার তালা ভেঙে ফেলে। কক্ষে ঢুকে রিয়াসহ অন্য নারী অভিভাবকেরা রেনুকে টেনেহিঁচড়ে দোতলার কক্ষ থেকে নিচে নামাতে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

চার্জশিটে বলা হয়, তারা স্কুলের ভেতরে পাকা মেঝেতে ফেলে রেনুকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। পরে রেনুকে তুলে একটু সামনে এগিয়ে গেলে সেখানে পুরুষেরা লাঠি নিয়ে হামলে পড়েন। তখন রেনু বেগম চিত্কার করে বলছিলেন, ‘আমারে মাইরেন না। আমি ছেলেধরা না।’ এ কথা শুনে হূদয় নামে একজন লোহার রড দিয়ে তাকে পেটাতে থাকে। কেউ কেউ লাথি মারতে থাকে। প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে অনবরত মারতে থাকার পর ঐ নারী নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

প্রসঙ্গত, রিয়া বাড্ডায় থাকেন এবং ঐ এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। তার স্বামী সাগর হোসেন রবিন পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। জুনায়েদ নামে রিয়ার ছয় বছরের সন্তান ঐ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
হাজীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কামরুলের মৃত্যু সৈয়্যদ আহমদ সিরিকোটি (রাহ.)’র ৬৫ তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ওরস মোবারক ও মাহফিল হজ্ব যাত্রীদের জন্য বাবুরহাটে সানমুন ট্যুরস্ এন্ড ট্রাভেলস্ এর আলোচনা ও দোয়া রেমালের তাণ্ডব, কুয়াকাটায় একজনের মৃত্যু ঘণ্টায় ১৩ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে রেমাল, আঘাত রাতে হাজীগঞ্জের মিতু হত্যা মামলায় আসামীর মৃত্যুদন্ড আঘাত হানতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ উপকূলের নদ-নদীতে বেড়েছে পানি, তলিয়ে গেছে সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় রেমাল : স্কুল বন্ধ থাকা নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী টেন্ডার ছাড়া স্কুলের রড বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক কচুয়ায় চোরাইকৃত অটোরিক্সা’সহ গ্রেফতার চার চাঁদপুরে দালালের খপ্পরে পড়ে কিরগিস্তান, এখন দেশে আসার আকুতি চাঁদপুর থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ দৈনিক আদি বাংলা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এমরান হোসেন রাজন চাঁদপুরে রেমাল মোকাবেলায় সতর্কতায় নৌ-পুলিশ মেঘনায় নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরায় ৫ জেলে আটক গলায় ফাঁস দিয়ে রুয়েট শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা অনলাইনে ইলিশ ক্রয়ে প্রতারক হতে সাবধান! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, সংকেত বাড়লেও এখনো শান্ত উপকূল উপকূলীয় এলাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ