
আবহাওয়া পরিস্থিতি
বর্ষা মৌসুমের কম বৃষ্টিপাত শরতে যেন পুষিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতি


বর্ষা মৌসুমের কম বৃষ্টিপাত শরতে যেন পুষিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতি। হেমন্তের আগমনের আগে অক্টোবরের বড় অংশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দুদিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত এই ধারা চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা কমে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে ফের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে তিস্তা নদী ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলো বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে এই বন্যা বড় মানের ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করেন তারা।
জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘রোববার থেকে সারা দেশেই বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রধান কারণ-মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয়। তাছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ আছে। এই লঘুচাপের প্রভাব এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে থেমে থেমে সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের এমন পরিস্থিতি আরও দুদিন বিরাজমান থাকবে। এরপর নিয়মিত বৃষ্টি হবে। কিন্তু বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমে যাবে।’ বৃষ্টিপাত কমে ফের বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমবে। কিন্তু সারা দেশে কমবে না। যেমন চট্টগ্রামের দিকে একটু কমতে পারে। দুই থেকে তিন দিন এমন কম থাকবে। এর পরবর্তী সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ফের বাড়তে পারে।’ কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ৯-১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোতে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে তিস্তা নদী ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলো বন্যাকবলিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্ষাকালের শুরুতে বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এ বছর মৌসুমি বায়ু ৩০-৩১ মে চট্টগ্রামে পৌঁছায় ও জুন মাসের ২য় সপ্তাহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ওপর অবস্থান করায় আবহাওয়া সম্পর্কিত ট্রাফিক জ্যামের সম্মুখীন হয়। যার কারণে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড ব্রেকিং বৃষ্টিপাত হয় পরপর ৩ দিন (১৫, ১৬ ও ১৭ জুন ৮০০ মিলিমিটারের বেশি)। এ কারণে সিলেট বিভাগে সর্বকালের স্মরণীয় বন্যার সম্মুখীন হয়। সাধারণত মৌসুমি বায়ুর উত্তর-পশ্চিমমুখী যাত্রা শেষ হয় সেপ্টেম্বর মাসের ২য় সপ্তাহে পাকিস্তানের ওপরে। সাধারণত ১৫-২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মৌসুমি বায়ুর বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু হয়। চলতি বছরে মৌসুমি বায়ুর বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু হয়েছে স্বাভাবিক সময় অপেক্ষা প্রায় ১ সপ্তাহ পরে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের চতুর্থ সপ্তাহে (২০-২৮ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে)। অন্য বছরের চেয়ে দেরি করে বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু হওয়ায় এ বছর সাত থেকে ১০ দিন পর মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের স্থলভাগ ছেড়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে।


মোস্তফা কামাল পলাশ আরও বলেন, ‘এক সপ্তাহ ভারি বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব-ভারতীয় রাজ্যগুলোতে। সম্ভাব্য এই ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে অক্টোবর মাসের ৯ থেকে ১৫ তারিখ। এই সময়ে তিস্তা নদী ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলো বন্যাকবলিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ‘আগামী ২ সপ্তাহে (অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত) বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ কিংবা নিুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকার আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম এ সম্ভাবনার কথা বলছে।’
এদিকে ভারি বর্ষণের মাস জুলাই ও আগস্ট তেমন বৃষ্টির মুখ না দেখলেও অক্টোবরে এসে তা বেড়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর (বর্ষা) বিদায় নেওয়ার কথা রয়েছে। তাই এ সময় দিনরাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।
M/N








