ক্লু-লেছ হত্যা মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১

Default User
পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট
আপডেটঃ অক্টোবর ১৯, ২০২১ | ৫:৫৩
Link Copied Successfully!

র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ কর্তৃক ২৪ ঘন্টার মধ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় দায়েরকৃত ক্লু-লেছ হত্যা মামলার প্রধান ও একমাত্র আসামী গ্রেফতার। হত্যায় ব্যবহৃত আলামত জব্দ।

১৭ই অক্টোবর কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন মালিখিল গ্রামের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের পুকুরে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দাউদকান্দি থানায় খবর দিলে দাউদকান্দি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এই বিষয়ে ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। বিষয়টি নজরে আসলে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা কাজ শুরু করে। ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভিকটিম গত ১৬ই অক্টোবর কাজে যাবার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায় এবং দুপুর থেকেই ভিকটিমের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ভিকটিমের সন্ধান পায়নি এবং পরবর্তীতে দাউদকান্দি থানার মাধ্যমে ভিকটিমের হত্যার বিষয়টি জানতে পারে। র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে ভিকটিমের সাথে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালি থানার ধনপুর গ্রামের মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে মোঃ কানু মিয়া (৫০) এর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানতে পারে। এমতাবস্থায় কানু মিয়ার অবস্থান সনাক্ত করে তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কথাবার্তা সন্দেহ জনক মনে হলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ১৮ই অক্টোবর র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লায় নিয়ে আসা হয়। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ কানু মিয়া জানায় যে, ভিকটিমের সাথে তার দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিবাহিত বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং সে ভিকটিমকে আর্থিক সহায়তা ও ভরণ-পোষন করে আসছিল। ইতোমধ্যে কানু মিয়া জানতে পারে যে, তার সাথে ছাড়াও ভিকটিমের আরো একাধিক লোকের সাথে ঘনিষ্টতা রয়েছে। বিগত কিছুদিন যাবৎ ভিকটিম বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবুর্চিদের সাথে রান্না-বান্নার সহযোগী হিসেবে কাজ করত, যা কানু মিয়ার পছন্দ করতো না তাই কাজ না করার জন্য ভিকটিমকে নিষেধ করে। কানু মিয়া নিষেধ করা সত্ত্বেও ১৫ই অক্টোবর শুক্রবার কানু মিয়া স্বচক্ষে ভিকটিমকে ঐকাজে দেখতে পায় এবং মোবাইল ফোনে কল করে তার অবস্থান জানতে চাইলে ভিকটিম তার ভাইয়ের বউকে দেখার জন্য হাসপাতালে গিয়েছে বলে জানায়। এর ফলে ভিকটিমের প্রতি কানু মিয়ার মনে ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে ১৬ই অক্টোবর ভিকটিম কানু মিয়ার মঠপুস্কুরিনী গ্রামের “মাহি ফার্নিচার মার্ট” দোকানে গিয়ে তার বিভিন্ন আর্থিক চাহিদার কথা বললে কানু মিয়া তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। যার ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে ব্যাপক কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কানু মিয়া তার দোকানে ফার্নিচার তৈরীর কাজে ব্যবহৃত “বাটাল” দিয়ে প্রথমে ভিকটিমের পেটে আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করে এবং পরবর্তীতে ভিকটিমের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে কানু মিয়া ভিকটিমের লাশ দোকানে ফার্নিচারের আড়ালে লুকিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যায়। রাতে কানু মিয়া পুনরায় তার ফার্নিচার দোকানে যায় এবং ভিকটিমের লাশটিকে দুইটি বস্তায় ভরে রশি দিয়ে বেঁধে কম্বল দিয়ে প্যাঁচিয়ে লাশটি গুম করার জন্য প্রস্তুত করে। এমতাবস্থায় লাশটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য তার একটি গাড়ির প্রয়োজন হয়। কানু মিয়ার একমাত্র ছেলে গাড়িচালক তবে ছেলের সাথে তার সম্পর্ক খারাপ ছিল। তাই কৌশলে সে তার ছেলের নিকট থেকে সাহায্য নেয়ার জন্য জানায়, তার কিছু ফার্নিচার আছে যা দ্রুত দাউদকান্দি গিয়ে ডেলিভারী দিয়ে আসতে হবে, তা না হলে ফার্নিচারের ক্রয়কারী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে বলে হুমকি দিয়েছে। তখন তার ছেলে জানায় যে, সে গাড়ি নিয়ে ওয়ার্কশপে আছে এবং সে রাতের খাবার খায়নি। তখন কানু মিয়া বলে যে, তুই তর গাড়িটি আমার দোকানের সামনে রেখে বাসায় গিয়ে খাবার খেয়ে আয়, ততক্ষণে আমি মালামাল লোড করে নেই। কানু মিয়ার ছেলে বাবার কথামতো দোকানের সামনে গাড়ি রেখে বাসায় খাবার খেতে গেলে তার অগোচরে কানু মিয়া ভিকটিমের লাশটি গাড়িতে রেখে দেয়। কানু মিয়ার ছেলে খাবার খেয়ে আসলে তারা দাউদকান্দির উদ্দেশ্যে রওনা করে।

পরবর্তীতে রাতে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন মালিখিল গ্রামের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৌছলে কানু মিয়া রাস্তার ডান পাশে একটি বড় পুকুর দেখতে পেয়ে তার ছেলেকে ফার্নিচারের মালিক এখানেই মাল নিতে আসবে বলে জানায়। তখন কানু মিয়া সুকৌশলে তার ছেলেকে পান আনার কথা বলে রাস্তার ওপর দিকে টং দোকানে পাঠায় এবং এর মধ্যেই সে লাশটি মহাসড়কের পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। তখন তার ছেলে পান নিয়ে আসলে সে মাল ডেলিভারী হয়ে গিয়েছে বলে জানায় এবং তারা বাসায় চলে আসে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ই অক্টোবর তার ফার্নিচার দোকান থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত “বাটাল” এবং তার বাসা থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অজ্ঞাত হত্যা প্রতিরোধ ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান র‌্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
৪০–৫০ বছর পর ওয়ারিশি সম্পত্তির দাবি, মামলা চলাকালেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২ জন কিউআর কোডে লেনদেনে কোনো ফি লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ নেতা ফরিদগঞ্জে মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড পুলিশ পরিচয়ে চালককে ফ্ল্যাটে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী কচুয়ায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক জুলাই গণহত্যার দুই মামলায় আসামি পটুয়াখালী নদীবন্দরের কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ মতলব উত্তরে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ ও অনুদানের চেক প্রদান কচুয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব মতলব পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও ২৮ হাজার টাকার শাড়ি প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা চাঁদপুরে রাতে ঘুরাঘুরি করায় ৪৯ কিশোর আটক কুয়েত প্রবাসী খোকন পাটওয়ারীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচনে তৃতীয় চাঁদপুরের হোসনে আরা মতলব পৌরসভার সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সভা