
কাজ না করেই বিল আদায়ের চেষ্টা চেয়ারম্যানের


নিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বালিয়াটি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
সরকারদলীয় নেতা তিনি- এমন দম্ভে প্রশাসনের সঙ্গে খবরদারি করেন চেয়ারম্যান। উপজেলা পিআইও নিজেই এ অভিযোগ তোলেন। কাজ না করে বিল আদায়ের নির্দেশে প্রতিবাদ করায় তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এ অবস্থায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) শাহরিয়ার মাহমুদ রঞ্জু বলেন, বালিয়াটির চেয়ারম্যান রুহল আমিন বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নিজেকে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যর ঘনিষ্ঠ লোক ভেবে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ করেন।


ইউপি চেয়ারম্যানদের অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ করতে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়। ওই সব প্রকল্পের কাজ শেষ না করেও বিল পরিশোধের চাপ দেন বালিয়াটি ইউপি চেয়ারম্যান।
কিছু প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে পিআইও বলেন, বালিয়াটি ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের সামনে গর্তে মাটি ভরাটের কাজ মোটেও হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ৫নং ওযার্ডের সদস্য সাহেদ আলী পুরো বিল দাবি করেন।
এতে বিল দিতে অস্বীকার করেন তিনি (কর্মকর্তা। কিন্তু চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন পিআইও শাহরিয়ার রঞ্জুকে বিল দেয়ার জন্য চাপ দেন। এ ধরনের আরও একাধিক প্রকল্প রয়েছে তার ইউনিয়ন এলাকায়।
পিআইও রঞ্জু বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প পরিপত্রের নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজ বুঝিয়ে দিবে। কিন্তু চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন নীতিমাল উপেক্ষা করে প্রায় প্রতিটি প্রকল্পে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন।
সরেজমিন বালিয়াটি ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সামনে ডোবা ভরাট কাজে মাটি ফেলা হয়েছে এমন কোনো আলামত দেখা যায়নি।
তবে এ প্রকল্পের সভাপতি ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সাইদ আলী বলেন, কাজ করা হয়েছিল কিন্তু বর্ষার পানিতে মাটি ধুয়ে গেছে। আর যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে তা দিয়ে ডোবার চার ভাগের একভাগও ভরাট করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বালিয়াটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রুহল আমিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে আমি তার কাছে সুপারিশ করতে পারি কিন্তু কখনও হুমকি দেই নাই।
পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, পিআইও শাহরিয়ার মাহমুদ রঞ্জু সরকারি চাকরিজীবী হয়েও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।




























