
পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাংলাদেশীরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে


বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বি.এস.পি) এর চেয়ারম্যান ও মাইজভাণ্ডার শরীফের সাজ্জাদানশীন, শাহ্সূফি সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, মাতৃভাষা মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত। কারণ মাতৃভাষার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে প্রকাশ করি। পবিত্র কুরআন এর ভাষা আরবি হয়েছে, এ কারণে যে, আমাদের প্রিয় নবিজীর (সা) মাতৃভাষা ছিল আরবি। এখান থেকে আমরা যেমন প্রিয় নবিজীর (সা) উচ্চ মর্যাদা অনুধাবন করতে পারি, তেমনি মাতৃভাষার গুরুত্বও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সকল ভাষাই মহান আল্লাহ্ তা’য়ালার দান। মাতৃভাষার মাধ্যমেই আমরা মহান আল্লাহ্ ও প্রিয় নবিজীর (সা) প্রতি প্রশংসা, ভালোবাসা, প্রার্থনা, আকুতি সবচেয়ে সুন্দর ও শাবলীলভাবে নিবেদন করতে পারি। যেমনটি মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিম বলেছেন
আরবি ফারসি হিন্দে নাই দুই মত। যদি বা লিখয়ে আল্লা নবীর ছিফত।। যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ। সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন। সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী আরো বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাংলাদেশীরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে। শহীদদের রক্তে অর্জিত এ বর্ণমালার মর্যাদা অক্ষুন্ন রক্ষা, মুসলমান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। কারণ নিজ ভাষা-সংস্কৃতিই কোন জাতির সার্বভৌমত্বের ভিত্তি।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষা চর্চার বা জানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সেই চর্চা করতে গিয়ে আমরা যেন মাতৃভাষার গৌরবকে খর্ব না করি, শহীদদের মহান আত্নত্যাগকে, আমাদের শিকড়কে ভুলে না যাই, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের কথা বলা হয়েছে এবং ১৯৮৭ সালে এ লক্ষ্যে আইন পাশ হলেও বাংলাদেশে এখনো উচ্চ শিক্ষার ভাষা, উচ্চ আদালতের ভাষা ইংরেজি৷ আধুনিকতার নামে যুব সমাজের একটি বড় অংশ বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। পাশাপাশি পশ্চিমা সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব বাংলা ভাষার অস্তিত্বের ওপর আঘাত হানছে।
এ বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে, বাংলা ভাষার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে আরো উদ্যোগী হওয়ার এবং সকল নাগরিককে সচেতন হওয়ার আহবান জানান সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।


২০শে ফেব্রুয়ারি,বাদ এশা, চট্টগামের বাঁশখালী উপজেলায় খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা চৌরাস্তায় রহমানিয়া মইনীয়া সাইফিয়া নুর-এ-মোহাম্মদীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিত্তিফলক উম্মোচনের পর, মইনীয়া যুব ফোরামে খানখানাবাদ শাখার উদ্যোগে, পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুননবী (সা.) ও আহলে বাইতে রাসুল (সা.) স্মরণে হোসাইনী কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিশিষ্ট সমাজসেবক নূর মোহাম্মদ সাহেবের সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন, মুফতি জসিম উদ্দীন আল আজহারি, মুফতি বাকী বিল্লাহ্ আল আজহারি, মুফতি মাকসুদুর রহমান, মওলানা মমতাজুল ইসলাম নঈমী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক, খলিফা শহিদুল্লাহ্ মইনীয়া যুব ফোরামের, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ আল মামুন প্রমুখ।




























