
নতুন বছরে নতুন বই বিতরণে অনিয়ম দেখতে চান না জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুরের সহযোগিতায় “করোনাকালীন প্রাথমিক শিক্ষাঃ চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা গতকাল ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি শাহানারা বেগম। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাহাব উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের প্রাক্তন সভাপতি কাজী শাহাদাত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাহাব উদ্দিন বলেন, বই বিতরণে যেন কোন ধরনের অনিয়ম না হয় সেদিকে শিক্ষা অফিসারদের দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন সংকটেও শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। এমন কিছু শিক্ষক আছেন যাদের সমস্ত চিন্তা চেতনা শিশুকেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নেওয়া ও অনলাইন ক্লাশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের আন্তরিকতার শেষ নেই। তিনি আরও বলেন, ০১ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার থেকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বই বিতরণ করা হবে। শিক্ষকদের মধ্যে একটা আন্তরিক সম্পর্ক ও ইংরেজির উপর তাদের দক্ষতাকে আরও বৃদ্ধি করার জন্য জুম প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিদিন রাত ৮টার পর ইংলিশ স্পিকিং কোর্স চালু করা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন শিক্ষক ক্লাসে অংশগ্রহণ করে থাকে। আশা করছি এদের মধ্য থেকে বেস্ট স্পিকারের পুরস্কার দেওয়া হবে। আগামী ০১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে এ্যাকটিভ মাদার্স ফোরামের কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করা হবে। তিনি করোনাকালীন সংকটের পর শিক্ষকরা যাতে শিক্ষার্থীদের শতভাগ পাঠদান করাতে পারেন সেজন্য সনাক-টিআইবি’র সহযোগিতা কামনা করেন। টিআইবি থেকে প্রকাশিত বর্ণমালায় নীতিকথা বইটিও ইতিমধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার স্কুলগুলোতে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি সনাকের সাথে আলোচনা করে অন্যান্য উপজেলায় কিভাবে দেওয়া যায় সেব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি সনাক-টিআইবি’র এধরণের ভার্চুয়াল সভা আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, করোনাকালীন সময়েও বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়াও সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ০১ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার থেকে স্বাস্থবিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বই বিতরণ করা হবে। তিনি শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সাথে সনাকের এধরনের সভায় অন্যান্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের রাখার আহ্বান জানান। মোঃ ফরিদ উদ্দীন বলেন, এবছর বই বিতরণে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে না। শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকরা স্কুলে এসে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বই নিয়ে যাবে। এই সংকটময় সময়েও আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রেখেছি। বই বিতরণে কোন আর্থিক অনিয়ম যাতে না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।


স্বাগত বক্তব্যে সনাকের প্রাক্তন সভাপতি ও সদস্য কাজী শাহাদাত বলেন, এই সংকটকালীন মূহুর্তের মধ্যে থেকেও শিশুদের পাঠের সাথে সম্পৃক্ত রাখার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আমরা আশা করছি এতে করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব¡পূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় নিজে হোস্ট হয়ে সনাক-টিআইবি’র সাথে এধরণের ভার্চুয়াল সভা আয়োজন করার জন্য তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি শাহানারা বেগম বলেন, করোনাকালীন সংকটেও কিভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠে, খেলাধুলায় ও অন্যান্য শিক্ষামূলক কর্মকান্ডে মনোনিবেশ করানো যায় সেদিকে যেভাবে খেয়াল রাখছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইংরেজির উপর শিক্ষকদের দক্ষতাকে আরও বৃদ্ধি করার জন্য জুম প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিদিন ইংলিশ স্পিকিং কোর্স চালু করায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সনাক-টিআইবি’র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তিনি বলেন, আমি প্রত্যাশা করছি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক এধরণের উদ্যোগ শিক্ষা অধিদপ্তর সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেবে। এই সংকটময় মুহূর্তেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই করোনাকালীন সময়েও প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের এধরণের উদ্যোগ ও চিত্র দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত। তিনি এ্যাকটিভ মাদার্স ফোরামকে আরও কার্যকর করার জন্য শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
সনাকের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোশারেফ হোসেন বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মনিটরিং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সচল রাখে বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় যেভাবে তার সহকর্মীদের মনিটরিং করছেন তা সত্যি প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও সত্যিকারভাবে আমরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের নেতৃত্বে চাঁদপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। সনাকের সহ-সভাপতি ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া বলেন, অনলাইন ক্লাশ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা যেমনি উপকৃত হচ্ছেন তেমনি শিক্ষকদেরও উৎকর্ষ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয়। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ক্লাশ আমাদেরকে সততার শিক্ষাও দিয়েছে। করোনাকালীন সংকটময় মুহূর্তেও মানব সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি অনলাইন ক্লাশগুলো শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটের কোন একটা যায়গায় দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে করে যেসকল শিক্ষার্থী কোন কারনে ক্লাশ করতে পারেনি সেক্ষেত্রে তারা সেখান থেকে ক্লাশগুলো করতে পারবে।
করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ, বাস্তবায়ন এবং চ্যালেঞ্জ বিষয়ে উম্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল হাই, মোঃ মজিবুর রহমান, মোসাম্মৎ রাবেয়া আক্তার, মনছুর আহমেদ ও মোঃ ইলিয়াছ। তারা বলেন, ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে অর্থাৎ করোনাকালীন সংকটের মধ্যেও শিক্ষা অধিদপ্তরের ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া সচল রাখার জন্য ও পাঠ কার্যক্রমে আরও উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তারা আরও বলেন, সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে প্রচারিত শিক্ষা কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তেও শিক্ষকরা মাঝে মধ্যে স্কুলে গিয়ে স্কুলের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত দিকগুলো দেখাশুনা করছেন। তারা বলেন, স্কুলের প্রত্যক্ষ পাঠদান বন্ধ থাকলেও স্কুলের অন্যান্য কার্যক্রমগুলো কিন্তু বন্ধ নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো শিক্ষকদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি ও ইংরেজির উপর শিক্ষকদের আরও বেশি দক্ষতা অর্জনের জন্য জুম প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিদিন রাত ৮টার পর ইংলিশ স্পিকিং কোর্স চালু করা। যা ইতিমধ্যে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছে। এধরণের ভার্চুয়াল সভা আয়োজন করার জন্য তারা সনাক ও টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।
টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মোঃ মাসুদ রানার সঞ্চালনায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, উত্তর শ্রীরামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান সিদ্দিকী, উত্তর তরপুরচন্ডী কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোদেজা বেগম। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সনাক সদস্য ইসমত আরা সাফি বন্যা, মোঃ আব্দুল মালেক ও মোঃ আলমগীর পাটওয়ারী, ইয়েস গ্রুপের দলনেতা রাজীব দাস, সহ-দলনেতাবৃন্দ এবং টিআইবি কর্মীবৃন্দ।

























