
হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে উন্নয়নের বার্তা, ছয় মাসে এমপির ৭ বড় পদক্ষেপ


চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের প্রথম ছয় মাসে দুই উপজেলায় উন্নয়ন ও জনসেবায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাট-বাজারের খাজনা পরিশোধ, যানবাহন থেকে টোল আদায় বন্ধ, হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, মিনি স্টেডিয়াম ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ এসব উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির হাট-বাজারে সরকারের ধার্য করা ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা খাজনা বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি কোষাগারে পরিশোধ করা হয়েছে। এর ফলে হাট-বাজারের সংশ্লিষ্ট জনগণ খাজনার চাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে তিন চাকার গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয় কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


স্বাস্থ্য খাতেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তির ৫০ শয্যার দুটি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দুই উপজেলার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নেও এসেছে নতুন উদ্যোগ। হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির জন্য দুটি মিনি স্টেডিয়ামের অনুমোদনপত্র লাভের কথা জানানো হয়েছে। এসব স্টেডিয়াম বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় খেলোয়াড় ও তরুণদের ক্রীড়া চর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে দুটি উপজেলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে স্থানীয় তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। শাহরাস্তি মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের অনুমতি লাভ করেছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার উচ্চশিক্ষায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে হাজীগঞ্জে নতুন ইউনিয়ন গঠনের অনুমোদনও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উপজেলার ১৩ নম্বর অলিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সরকার কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে। এর ফলে ৫ নম্বর সদর ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অনুমোদিত ও চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সরকারের প্রথম ছয় মাসে এসব উদ্যোগকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।








