
ইয়াবার নাটক সাজিয়ে হাজীগঞ্জের হাজ্বী জহির উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানে হামলা, নগদ ১০ লাখ টাকাসহ মালামাল লুটপাটের অভিযোগ


হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের বানিয়চোঁ গ্রামের বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম এন্ড ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজ্বী জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকের নাটক সাজিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও নগদ ১০ লক্ষ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টার সময় তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী জহির ফোন করে তার মালিক জহির উদ্দিনকে জানান পার্শ্ববর্তী বিমল শীলের ছেলে কাঞ্চন শীল তার মাছের ঘেরের কাছে কি যেন করছে, এ কথা শুনে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আসেন এবং কাঞ্চনকে ওখানে এত রাত্রে কি করছে জিজ্ঞাস করলে কোন সদোত্তর দিতে না পারায় তাকে ধরে পাশে থাকা খামার বাড়িতে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তার বাবা-মা’কে খবর দিলে কাঞ্চনের মা ও কাকি জহির উদ্দিনের খামার বাড়িতে আসেন এবং তাকে শাশন করেন, ঘটনাটি তখনি মীমাংসা হলেও তারা যেতে না যেতেই কাঞ্চনের কাকা শুগল এলাকার লোকজনকে ভূল বুঝিয়ে ১ থেকে দেড়শতাধিক লোক নিয়ে খামার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা প্রথমে ১০/১২ টি সিসি ক্যামেরা, টিভি, মেশিনপত্র ভাংচুর করে, এরপর তারা ঘরে ঢুকে স্টিলের আলমিরা, আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং সিন্দুক ভেঙ্গে ৮ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এতে করে আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার বেশি ক্ষতি সাধন করেন। হামলাকারীরা খামারে থাকা কালার বাট, লেয়ার মুরগী, টার্কি ও দেশীয় হাঁস-মুরগী হরিলুট করে নিয়ে যায়।


এইসব বিষয় ধামাচাপা দিতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে মাদকের নাটক সাজিয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশকে কল করেন ৯ পিজ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিক এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে জানতে পারে তার তোষকের নিছে নাকি ইয়াবা পাওয়া গেছে, পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাকে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের সামনেই এলাকার কিছু উশৃংখল যুবক হাজী জহির উদ্দিনকে বেদম মারধর করে। পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার পরের দিন ৯ পিচ ইয়াবা দিয়ে মামলা সাজিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন, বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।
জহির উদ্দিনের স্ত্রী জান্নাত বেগম জানায়, আমার স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার, এই ঘটনার মূল হোতা কাঞ্চন, সে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় গভীর রাতে আমাদের দিঘীরপাড় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে বখাটে ছেলেদের নিয়ে প্রায়দিন আড্ডা দিতো, ওই সময়েও আমার স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। কাঞ্চন শীল ও তার কাকাসহ এলাকার কিছু বখাটেরা পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যদি আমার স্বামী ইয়াবা সেবন কিংবা ব্যবসা করে থাকে তাহলে কি তিনি ঘরের মধ্যে তোষকের নিছে এসব রাখবে? আমার স্বামী জহির উদ্দিন দুইবার বড় হজ্ব করেছেন, আমাকে ও সন্তানদেরকেও হজ্ব করিয়েছেন, দুই ছেলে ঢাকা একটি সুনামধন্য হাফিজি মাদ্রাসায় পড়েন, এলাকায় দানবীর হিসেবে পরিচিত।
৫-৬ একর সম্পত্তির মধ্যে আমাদের এই খামারবাড়ি রয়েছে, এখানে হাঁস- মুরগী, গরু সহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির খামার রয়েছে, এছাড়াও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফল- ফলাদি সহ পুকুর-দিঘিতে মাছের চাষ করা হচ্ছে।
খামারে থাকা লেয়ার মুরগী থেকে প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার ডিম সংগ্রহ করে সরবরাহ করা হচ্ছে, এছাড়াও ১০০ লিটারের বেশি দুধ উৎপাদন হচ্ছে। এসব বিষয় দেখে অনেকের সহ্য হচ্ছে না। তিনি একজন বিএনপি’র কঠোর সমর্থক কিন্তু তাকে একটি চক্র আওয়ামীলীগ ট্যাগ লাগিয়ে বিভিন্ন ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
খামারের কর্মচারী আবুল হোসেন জানান, আমি কোন দিন তাকে বাজে কিছু খেতে দেখিনা। তাকে ফাসানো হয়েছে, সে ষড়যন্ত্রের স্বিকার।
জহির উদ্দিনের শেলক মনির জানান, উনি অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং সফল ব্যবসায়ী, তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র আশা করিনি। আমি পুলিশ লকারে তার সাথে কথা বলেছি তিনি বলেছেন আমি ষড়যন্ত্রের শিকার, একটি চক্র বিভিন্ন সময় আমার থেকে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তারা ব্যর্থ হলে সুকৌশলে আমাকে সমাজে হে প্রতিপন্ন করার জন্য এই জঘন্য ঘটনা ঘটায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক জানান, ঘটনার সময় আমি চাঁদপুরে ছিলাম, রাত আনুমানিক ১২ টার সময় এলাকা থেকে ফোন করে বলে পার্শ্ববর্তী কাঞ্চন শীলকে ধরে খামার বাড়িতে নিয়ে গেছে জহির উদ্দিন, এ ঘটনায় এলাকার লোকজন ওই খামার বাড়িতে জরো হচ্ছে। তখন আমি চাঁদপুর থেকে রওয়ানা দেই এবং ৯৯৯ এ ফোন দেওয়ার জন্য বলি। ওই সময় হাজীগঞ্জ থানার এএসআই ইউনুছ ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে গিয়ে দেখি এলাকার দেড় থেকে দুইশ’ লোক জরো হয়ে আছে। জহিরউদ্দিনের তোষকের নিচে নাকি ইয়াবা পেয়েছে স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে হাজীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। খামার বাড়িতে হামলা, লুঠপাঠ ও ভাংচুরের ঘটনা তিনি কিছুই দেখেননি।
এ বিষয়ে কাঞ্চন বলেন, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় রাসেল নামের এলাকার এক বড় ভাই আমাকে ফোন করে বলেন তার মোবাইলে কি সমস্য হয়েছে। তখন আমি পার্শ্ববর্তী জহির উদ্দিনের দিঘির পাড়ে আসতে বলি, সেখানে মোবাইল দেখার ৫-৬ মিনিট পরেই জহির উদ্দিন আমাকে ধরে কোন কথা না বলেই মারধর করে এবং তার খামার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজন জরো হয়। এরপর তার রুমে নাকি মাদক পেয়েছে বলে জানতে পারি এবং তাকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসির সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

























