
চাঁদপুর সদরের ফলাফলে সাফল্যের ঝলক, সঙ্গে বড় প্রশ্ন: ৫ হাজার ৮৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ১,৮৮৭


চাঁদপুর সদর উপজেলার মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২৬ সালের এসএসসি, এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের পাশাপাশি দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী। তিন ধারার পরীক্ষায় মোট ৫ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ৯৬৯ জন। সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০৬ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন ধারার মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাসের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও কারিগরি ও দাখিল ধারায় পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে। ফলে শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা নয়, সামগ্রিক পাসের হারও এবারের ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাধ্যমিকে পাস ৩২৭৩, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮১ জন
চাঁদপুর সদর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৪ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ২৭৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৩৩৩ জন। পাসের হার ৭২.০৬ শতাংশ।


এ ধারায় মোট ৪৮১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অর্থাৎ ভালো ফল করা শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে।
চাঁদপুর সদরের উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ ফলাফলে আলাদা করে নজর কেড়েছে। এর মধ্যে আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৯ জন, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৪ জন এবং হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৬ জন।
তবে জিপিএ-৫-এর সংখ্যার পাশাপাশি পাসের হারেও প্রতিষ্ঠানভেদে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। ফলে এবারের মাধ্যমিক ফলাফলে একদিকে যেমন কৃতিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে, অন্যদিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও ভাবনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কারিগরি শিক্ষায় পাসের হার ৫১.২২ শতাংশ
চাঁদপুর সদর উপজেলার কারিগরি এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে তুলনামূলকভাবে দুর্বল চিত্র দেখা গেছে। এ ধারায় মোট ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১২৬ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১২০ জন। পাসের হার ৫১.২২ শতাংশ।
ভোকেশনাল ধারায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। ফলে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দাখিলে আরও পিছিয়ে পাসের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ
চাঁদপুর সদর উপজেলার মাদ্রাসাগুলোতে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফলও আশানুরূপ হয়নি। এ বছর দাখিল পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৫৭০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৪৩৪ জন। পাসের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ।
দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ জন শিক্ষার্থী।
মাদ্রাসা শিক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণেও প্রতিষ্ঠানভেদে পার্থক্য স্পষ্ট। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল দেখা গেলেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে দাখিলের ফলাফলেও ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পাশাপাশি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সামগ্রিক ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
তিন ধারার ফলাফলে যে চিত্র-
চাঁদপুর সদর উপজেলার ২০২৬ সালের ফলাফলকে একসঙ্গে দেখলে দেখা যায়, মাধ্যমিক, ভোকেশনাল ও দাখিল—তিন ধারায় মোট ৫ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৯ জন কৃতকার্য এবং ১ হাজার ৮৮৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। তিন ধারায় সম্মিলিতভাবে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০৬ জন।
এর মধ্যে মাধ্যমিকে ৪৮১ জন, ভোকেশনালে ৬ জন এবং দাখিলে ১৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফলের সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে পাসের হারে। মাধ্যমিকে ৭২.০৬ শতাংশ, দাখিলে ৫৬.৭৭ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ৫১.২২ শতাংশ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। অর্থাৎ তিন ধারার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা, আর পিছিয়ে রয়েছে কারিগরি ভোকেশনাল শিক্ষা।
ফলাফল বলছে—জিপিএ-৫-এর সাফল্য যেমন রয়েছে, তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টিও এবার চাঁদপুর সদর উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি রাখে।

























