
কচুয়ায় এসএসসি ও দাখিলে ফল বিপর্যয়, হতাশ অভিভাবকরা


সদ্য প্রকাশিত কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৪০টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ৯৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৬৫৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮১ জন। উপজেলায় গড় পাশের হার ৫৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ফলাফলের শীর্ষে রয়েছে। এ বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। বিদ্যালয়টির পাশের হার ৮৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
এছাড়া এসএসসি ফলাফলে ওবায়েদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, তেগুরিয়া থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ জন উত্তীর্ণ হয়ে ৭৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ পাশের হার অর্জন করেছে। পালগিরি বেগম রাবেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাশের হার ৭৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং আশেক আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।


অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর মধ্যে পাথৈর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাশের হার মাত্র ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ, রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, রহিমানগর বেগম আয়েশা বাওয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং নিন্দপুর মহিউদ্দিন খান আলমগীর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৭ দশমিক ০৭ শতাংশ।
এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কচুয়া উপজেলার ৩৭টি মাদ্রাসা থেকে ১ হাজার ৪৪৯ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৯৪০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন। দাখিলে উপজেলায় পাশের হার ৬৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। কোনো মাদ্রাসা থেকেই শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি।
দাখিল পরীক্ষায় গাউছিয়া ছোবহানিয়া আলিম মাদ্রাসা ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাশের হার ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এছাড়া নিশ্চিন্তপুর ডি.এস ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় পাশের হার ৮৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, কাদলা খাদিজাতুল কোবরা মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ৮৬ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং দৌলতপুর সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৮৫ দশমিক ১৮ শতাংশ।
তবে দাখিলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। লক্ষ্মীপুর গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পাশের হার মাত্র ১৫ শতাংশ এবং দোঘর ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে কচুয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।



























