
বাবার বিদায়: এক শিশুর জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা শুরু


এই দৃশ্যটি শুধু একজন বাবার শেষ বিদায় ছিল না; এটি ছিল একটি শিশুর জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতার শুরু।
মরহুম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিকের অবুঝ সন্তান, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়হান মালিক ইলান, বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়েছে। ছোট্ট দুটি চোখে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, কিন্তু সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মতো মানুষটিই আজ নীরব।
হয়তো আজও সে পুরোপুরি বুঝতে পারেনি—কী হারিয়েছে। চারপাশে এত মানুষের কান্না, এত শোক, এত ব্যস্ততার মাঝেও সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল। হয়তো ভাবছিল, বাবা কেন আর কথা বলছেন না? কেন সবাই বাবাকে ঘিরে কাঁদছে?


হয়তো আমরা সবাই একদিন মরহুম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিককে ধীরে ধীরে ভুলে যাব। সময়ের স্রোতে নতুন খবর আসবে, নতুন ঘটনা ঘটবে, স্মৃতির পাতাও একসময় ঝাপসা হয়ে যাবে। কিন্তু একজন মানুষ কোনো দিন তাকে ভুলতে পারবে না—সে হলো তার ছোট্ট সন্তান আয়হান।
একদিন সে বড় হবে। তখন বুঝবে, তার মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকা ‘বাবা’ নামের বটবৃক্ষটি নেই। বুঝবে, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন মানুষকে খুঁজেও আর কোনো দিন পাওয়া যাবে না। স্কুলের সাফল্য, জীবনের আনন্দ, কিংবা দুঃসময়ের কান্না—সবকিছুতেই বাবার অনুপস্থিতি তাকে নতুন করে কাঁদাবে।
যেদিন ঈদের সকালে বাবার হাতটা ধরতে চাইবে… যেদিন কোনো অর্জন নিয়ে বাড়ি ফিরে বলবে, “বাবা, আমি পেরেছি”… যেদিন জীবনের কোনো কঠিন মুহূর্তে মনে হবে, “বাবাকে খুব দরকার”… সেদিন বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠবে—বাবা আর নেই।
পৃথিবীতে অনেক শূন্যতা পূরণ হয়, কিন্তু বাবার শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। একজন সন্তানের কাছে বাবা শুধু একজন মানুষ নন; তিনি সাহস, আশ্রয়, নিরাপত্তা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আরেক নাম।
আল্লাহ তাআলা মরহুম সাইফুল মালিককে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। ছোট্ট দুটি সন্তান সহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সবাইকে এই কঠিন শোক ধৈর্যের সঙ্গে বহন করার তাওফিক দান করুন।


























