
হাজীগঞ্জে শহীদ আজাদ হত্যা মামলায় ৫ নেতার আত্মসমর্পণ, জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত আলোচিত শহীদ আজাদ সরকার হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত চারজন ছাত্রলীগ নেতা ও একজন আওয়ামী লীগ নেতা বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চাঁদপুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা কাজী বশির, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সুমন, পৌর ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন আজাদ, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজী রাকিব এবং রুবেল কাজী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিকেলে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টোরাগড় গ্রামের সরকার বাড়ির মৃত আনু সরকারের ছেলে আজাদ সরকার নিজ বসতবাড়ির সামনে হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান।


ঘটনার পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট নিহতের ছেলে হিমেল হাজীগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন টোরাগড় গ্রামের কাজী বাড়ির ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিঠু কাজী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক কাজী, আওয়ামী লীগ নেতা বশির কাজী, বাদল কাজী ও নুরু কাজী, ছাত্রলীগ নেতা তুষার কাজী, রাকিব কাজী, সিয়াম কাজী ও রুবেল কাজী।
এছাড়া হাজীগঞ্জ পৌরসভার মকিমাবাদ গ্রামের পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল আলম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলম শুভ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন আজাদ, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচৈই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন এবং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মৈশামূড়া গ্রামের সুমনকেও এ মামলার আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পাঁচ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান রয়েছে।








