
হাজীগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হলো সেল কাউন্টার মেশিন


হাজীগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে একটি আধুনিক সেল কাউন্টার মেশিন (অটোমেটিক হেমাটোলজি অ্যানালাইজার) স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে উপজেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষ দ্রুত, নির্ভুল ও স্বল্প খরচে রক্ত পরীক্ষার সুবিধা পাবেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এ উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন পৌরসভার অর্থায়নে মেশিনটি ক্রয় করে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে স্থাপন করেন।
জানা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই প্রথমবারের মতো সেল কাউন্টার মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি)-সহ অন্তত ২০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন পরীক্ষার সময় কমছে, অন্যদিকে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে।


স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা জানান, যেকোনো রোগ নির্ণয়ের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে সিবিসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে হাসপাতালে এসব পরীক্ষা ম্যানুয়াল বা এনালগ পদ্ধতিতে হওয়ায় সময় বেশি লাগত এবং জরুরি রোগীদের অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করাতে হতো।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান হাসপাতালে যোগদানের পর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের নির্দেশনা ও পরামর্শে সেল কাউন্টার মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পরে হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের আন্তরিক সহযোগিতা ও পৌরসভার অর্থায়নে মেশিনটি ক্রয় করে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে স্থাপন করা হয়।
বর্তমানে সরকারি নির্ধারিত স্বল্প ফিতে কম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষার নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট পাচ্ছেন রোগীরা। ফলে বিভিন্ন রোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা খুর্শিদা বেগম ও আবুল হাশেমের স্বজনরা জানান, আগে বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে অনেক বেশি টাকা ব্যয় হতো। এখন সরকারি ফি দিয়ে অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যাচ্ছে, যা তাদের জন্য অনেক স্বস্তিদায়ক।
হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট আহসান হাবিব ফিরোজ বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসানের উদ্যোগে সেল কাউন্টার মেশিনটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যক পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে এবং রোগীরা দ্রুত রিপোর্ট পাচ্ছেন। এতে বিশেষ করে প্রান্তিক ও অসচ্ছল জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, “স্বল্প খরচে, কম সময়ে এবং অধিক মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য প্যাথলজি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সেল কাউন্টার মেশিন স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এবং হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”








