
বীর নিবাসে সচ্ছলদের নাম, আপিল করেছেন অসচ্ছলরা


বীর নিবাস তালিকা নিয়ে আপিল, শুনানী ছাড়া পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্প। অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পের সুপারিশকৃত কমিটির তালিকায় সচ্ছলদের নামের তালিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারপর থেকে অন্তত দশজন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আপিল করেছেন।
মৃত মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী। তার ভাতা এখন দুই ভাগে প্রথম সংসারের কন্যা সন্তান ও দ্বিতীয় সংসারের স্ত্রী পাচ্ছেন। কিন্তু ঘরের তালিকায় প্রথম সংসারের কন্যার নাম রয়েছে। বিবাহিত ওই কন্যার স্বামী সিলেটে বসবাস করে। এখন কেরামত আলীর স্ত্রী সেলিনা বেগম খবর পেয়ে আপিল করেছেন।
তিনি বলছেন, আমি স্বামীকে নিয়ে ২০ বছর সংসার করেছি অন্যের ভিটায়। পিরোজপুর স্বামীর ভিটা সম্পত্তি সব প্রথম সংসারের কন্যার নামে। তাই রাগে ক্ষোভে আমার স্বামী কেরামত আলী ধড্ডা গ্রামে চলে আসে। সেখানে আমার মামাদের বাড়ীর কয়েকজনের সম্পত্তি উপর একটি কুঁড়েঘর। আমার স্বামীর স্বপ্ন ছিল সরকার থেকে একটি ঘর পাওয়ার। দুই মেয়ে নিয়ে আমি খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি।


খবর নিয়ে জানা গেছে তালিকায় যাদের নামে বীর নিবাস দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের প্রায় আটজনের বসতবাড়ীতে বিল্ডিং ও সরকারী চাকুরীজীবী রয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আপিল শুনানী হবার পর চূড়ান্ত তালিকা করে বীর নিবাসের কার্যক্রম শুরু করবে সরকার।
যাছাই-বাচাই কমিটির কাছে ২১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা আবেদন করেন। তার মধ্য থেকে ৩৭জনকে ‘বীর নিবাস’ করে দেয়ার জন্য সুপারিশ কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একধিক মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে সচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় স্থান করে দেয়। ঘর পেতে প্রকৃত অসচ্ছলদের মধ্যে অনেকেই বাদ দেয়া হয়েছে ।জানা গেছে, আবাসন প্রকল্পের যাছাই-বাছাই কমিটিতে রয়েছেন ৫জন। তাঁরা হলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের এবং মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব খোকন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশে দুই লাখ ১১ হাজার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা আছেন। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ১৪ হাজার একতলা বাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চলমান ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের আওতায় এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

























