
হাজীগঞ্জে ইদ্রিস হত্যা মামলা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে অসন্তোষ পরিবার, চার্জশিট প্রেরণ


হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ছয়ছিলা গ্রামের বকাউল বাড়ীর ইদ্রিস হত্যা মামলা নিয়ে বাদী পরিবার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এর উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিকে পুলিশ হত্যা মামলাটির চার্জশিট গঠন করে আদালত প্রেরণ করেছেন।
মামলার বাদী ইদ্রিসের ভাই কুদ্দুস বকাউল বলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আমার ভাইকে হৃদরোগে মারা গেছে বলে দেখানো হয়েছে। অথচ আমার ভাই মৃত্যুর আগে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, বুকটা ভেঙ্গে গেছে বলে আর্তনাদ করতে থাকে। বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারছিনা।
এদিকে হাজিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে হৃদ রোগে ইদ্রিসের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা মারামারি যে ঘটনা ঘটেছে তাতে ৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট গঠন করে আদালতে প্রেরণ করেছি।


সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মামলার বিবাদী হাজেরা বেগম তার বাড়িতে অবস্থান করছে। তারা মা-মেয়ে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
মামলার বিবাদী হাজেরা বেগম বলেন, মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমি কিছুই দেখিনি। আমি তখন অজ্ঞান অবস্থায় ছিলাম।
জানতে চাইলে বোরহানের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, ইদ্রিসকে মুঠোফোনে ডেকে আনার পর হাজেরা বেগম ও হাজরা বেগমের ছেলে বাবু এবং মেয়ে কুলসুমা বেগম এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। এক পর্যায়ে ইদ্রিস জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে একে একে তিনটি হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ওই বাড়ির কিশোর আলামীন বলেন, আমার মুঠোফোনে ইদ্রিস কাকাকে ফোন করে আনা এনেছি।
নিহত ইদ্রিসের বাবা ও মায়ের দাবি, ইদ্রিসের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পুনরায় বিবেচনা করা হোক এবং ইদ্রিসের হামলাকারীদের আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সেলিম বলেন, আমরা মারামারি ঘটনা উল্লেখ করে চার্জশীট প্রেরণ করেছি। সেখানে ৪ জনকে আসামী দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে ছয়ছিলা গ্রামের বকাউল বাড়ীর পুকুরের পানি সেচ নিয়ে মারামারির ঘটনায় ইদ্রিস নিহত হয়। সেই ঘটনায় ইদ্রিসের ভাই কুদ্দুস বকাউল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই সময় পুলিশ হামলাকারী দুই জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।

























