
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সেবা প্রদান চলছে


সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের সাথে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করোনাকালীন স্বাস্থ্যসেবা : চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা গতকাল ২৬ আগস্ট ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান।
করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ, বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ মাহবুব আলম বলেন, আমরা একটি বৈশ্বিক মহামারি ও দুর্যোগের মোকাবেলা করছি। ২৭ মার্চ চাঁদপুরে কোভিড ওয়ার্ড চালু করা হয়। পরবর্তীতে রোগী সংকুলান না হওয়ার কারনে আমরা মূল ভবনের ৩য় তলায় আরেকটি কোভিড ওয়ার্ড চালু করি। প্রথমে কোভিড-১৯ নিয়ে অপ্রস্তুত থাকলেও সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের কারনে বাংলাদেশ কোভিড মোকাবেলায় একটা ভালো অবস্থানে আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মানবতার সেবা দিতে এসেছি এবং দিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের ১০০ জন ডাক্তার মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার প্রতি শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি চাঁদপুরে ৩৪ জন ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, করোনায় চাঁদপুরের পরিস্থিতি এখন সহনীয় পর্যায়ে। রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্খিত সেবা দিতে না পারলেও চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার জানামতে, কোন রোগী সেবা নিতে এসে সেবা না নিয়ে ফিরে গেছে এমন কোন রেকর্ড নেই। আপনারা জানেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ও নিজস্ব অর্থায়নে চাঁদপুরে তার নিজ বাসভবনে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ ট্রাস্টের উদ্যোগে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি পিসিআর ল্যাব ও সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হাইফ্লো অক্সিজেন প্লান্ট স্হাপন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা থাকলে এই হাসপাতালের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা ইতিমধ্যে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করেছি। কোভিড আক্রান্ত কোন রোগী যেন বাহির থেকে ঔষধ কিনতে না হয় আমরা সেটাও নিশ্চিত করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি বিগত দিনেও সনাক চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে যেভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছে আগামী দিনেও তা অব্যাহত রাখবে। আজকের সভায় যে সমস্যা, পরামর্শ ও সুপারিশগুলো এসেছে আমি আশা করছি সকলের সহযোগিতায় তা অচিরেই সমাধান করা হবে। তিনি এমন একটি ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা আয়োজন করার জন্য সনাক-টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।
সনাকের সাবেক সভাপতি ও সদস্য কাজী শাহাদাত বলেন, আমি দেখেছি প্রয়াত ডাঃ আনোয়ারুল আজিম সদর হাসপাতালে যোগদান করার পর হাসপাতালের সেবার মানে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী পরিচালক মহোদয়গণ যোগদান পর হাসপাতালের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কোন রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে গেছে এমন কোন অভিযোগ এখন আর শুনা যায় না। বিগত ৩১ জুলাই ২০২০ আমার ভগ্নিপতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসলে আমি নিজ চোখে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে দেখেছি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সগণসেবা প্রদানে কতটা আন্তরিক। আমরা সনাকের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার জানামতে প্রতিদিন গড়ে ১০০০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি কিছু সমস্যাও লক্ষ্য করা যায়। যেমন- দালালদের দৌরাত্ম, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, খাবারের মান ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার ইত্যাদি। তিনি এসকল সমস্যা নিরসনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।


সভায় কোভিড সেবা গ্রহণকারী জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মোঃ মহিউদ্দিন রাসেল এবং কোভিড সময়ে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রতœা আক্তার কোভিড সময়কালীন হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেবা নিতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে তারা যে অসহযোগিতা বিরূপ আচরনের মুখোমুখী হয়েছেন সেবিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মোঃ মাসুদ রানার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। তিনি বলেন, ২০২০ সাল আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর ও বেদনাদায়ক। কারন কোভিড-১৯ আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। শুরুতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ এর সেবা সামাল দিতে না পারলেও বর্তমানে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছে এবং সেবার মানেরও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভাষাবিদ এমএ ওয়াদুদ ট্রাস্টের উদ্যোগে করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব ও সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হাইফ্লো অক্সিজেন প্লান্ট স্হাপন করার ফলে চাঁদপুরের মানুষ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছে।
টিআইবি প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন টিআইবি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (সিই) কুমিল্লা ক্লাস্টার মোঃ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় চাঁদপুরের করোনা পরিস্থিতি তেমন খারাপ নয়। তিনি আরও বলেন, শুধু কোভিড নয় কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা থাকলে স্বাস্থ্যসেবার যেকোন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। চিকিৎসক ও নার্সদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার পরও কিছু কর্মচারীর কারনে পুরো চিকিৎসাসেবা দুর্নাম বহন করে থাকে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা সহ মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোশারেফ হোসেন বলেন, সনাক চাঁদপুর ২০০৫ সাল থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে হাসপাতালের সেবার মানের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জানি করোনা পরিস্থিতিতেও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা প্রদান করছে। ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সনাক চাঁদপুরের সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক ও সদস্যবৃন্দ, ইয়েস গ্রুপের দলনেতা ও সদস্যবৃন্দ এবং টিআইবি’র কর্মীবৃন্দ।

























